ইসরাইলের ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত সংবেদনশীল সাধারণ নির্বাচনের প্রাথমিক ভোট গণনায় পূর্বাভাস ছাপিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসার শক্তিশালী ইঙ্গিত মিলেছে। তবে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে (নেসেট) প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের ডানপন্থি আল্ট্রা-অরথোডক্স জোট সরকার গঠনে শেষ পর্যন্ত সক্ষম হবে কি না, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, শুরুর দিকে ডানপন্থি আধিক্য থাকা এলাকার ভোট গণনা হওয়ায় এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
ভোটের দিন প্রায় ৭৭ শতাংশের বেশি রেকর্ড ভোটার উপস্থিতির পর থেকেই দেশে অভূতপূর্ব রাজনৈতিক অচলাবস্থার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। ইসরাইলের দ্বিখণ্ডিত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নেতানিয়াহুর প্রধান রাজনৈতিক শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের জন্য আরব রাজনৈতিক জোট ছাড়া কোয়ালিশন গঠন করা প্রায় অসম্ভব হতে যাচ্ছে।
দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ গঠন করা আরব-ইসরাইলিরা এবার নজিরবিহীন সংখ্যায় ভোট প্রদান করেছে এবং তাদের দলগুলো রেকর্ড পরিমাণ আসনে এগিয়ে রয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ ইহুদি বিরোধীদল ভোটের প্রচারে আরব দলগুলোর সাথে জোট না করায় চরম জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তবে, ইসরাইলের আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলো ‘কিংমেকার’ বা নির্ণায়ক শক্তিতে পরিণত হতে পারে, যদি অন্য দলগুলো তাদের সঙ্গে জোট বাঁধতে প্রস্তুত থাকে। এবারের নির্বাচনে আরব ইসরাইলিরা, যারা প্রায়শই নিজেদের ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেয় এবং মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ—অভূতপূর্ব সংখ্যায় ভোট দিতে বেরিয়ে এসেছিলো বলে মনে হয়েছে।
নিজেদের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে মধ্যরাতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দুই নেতাই সরকার গঠনের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। নেতানিয়াহু জয় ঘোষণা না করলেও দাবি করেন, জায়োনিস্ট ও ইহুদি জনগণের মধ্যে ডানপন্থি শিবিরের একটি পরিষ্কার ও নির্ণায়ক সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী সরকার গঠন করতে হবে। অন্যদিকে, আইজেনকোট বলেন, জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে এবং এই ব্যর্থ কোয়ালিশন জনগণের আস্থা হারিয়েছে।
ইসরাইলে মূলত ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলা, গাজা-লেবানন যুদ্ধ, বিচার বিভাগের সংস্কার এবং নেতানিয়াহুর দুর্নীতি বিচার নিয়ে গত চার বছরে সমাজ চরমভাবে বিভক্ত ছিল। তবে অধ্যাপক তামার হারম্যানের মতে, চার বছরের এত অস্থিরতার পরও ভোট ব্যাংকের কোনো বড় ধরণের পরিবর্তন ঘটেনি।
চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য এখনো প্রায় দশ শতাংশ অনুপস্থিত ভোট (প্রধানত সেনাসদস্যদের ভোট) গণনার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ সর্বাপেক্ষা সম্ভাবনাময় প্রার্থীকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন। তিনি ব্যর্থ হলে অন্য প্রার্থীরা সুযোগ পাবেন, অন্যথায় আগামী মাসগুলোতে ইসরায়েলকে আবারও নতুন নির্বাচনের দিকে হেঁটে যেতে হতে পারে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
বুথফেরত জরিপে সমানে-সমান নেতানিয়াহু-আইজেনকোট
নেতানিয়াহু জোট এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনে চরম অনিশ্চয়তা