সৌদি আরবের আকাবা শারে ওমরাহযাত্রীদের বাস দুর্ঘটনায় নিহত ২২ জনের মধ্যে ৮ জনই বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সূত্রে বলা হচ্ছে- বাসে মোট যাত্রী ছিল ৪৭ জন, তার মধ্য বাংলাদেশি যাত্রী ছিলেন ২৫ জন।
সোমবার (২৭ মার্চ) সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আসির প্রদেশ ও আভা শহরের সংযোগকারী সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ব্রেক ফেল করে সেতুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে বাসটি উল্টে যায়। বাসটিতে আগুন ধরে যায়। এতে ২২ জন ওমরাহ যাত্রী নিহত হন। আহত হন ২৫ জন।
এরমধ্যে ১৭ জন আহত বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত হতে পেরেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবার (২৯ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
সেই ১৭ জন হলেন- চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের আবুল বাশারের ছেলে সালাহউদ্দিন, ভোলার বুরহান উদ্দিন উপজেলার আল আমিন, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের সিরাজুল্লাহর ছেলে মিনহাজ, চাঁদপুরের কচুয়ার মো. জয়নালের ছেলে জুয়েল, মাগুরার শালিকার জাকির মোল্লার ছেলে আফ্রিদি মোল্লা (পাসপোর্ট নং- EA0231718), লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জের আবু সাইদের ছেলে মো. রিয়াজ, মো. সেলিম (পাসপোর্ট নং- A03459571), কুমিল্লার লাকসামের আইয়ুবি আলীর ছেলে দেলোয়ার হোসাইন, মুরাদনগর উপজেলার আব্দুল মালেকের ছেলে ইয়ার হোসাইন, মো. জজ মিয়ার ছেলে মো. জাহিদুল ইসলাম, নোয়াখালীর সেনবাগের আব্দুল লতিফের ছেলে মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, মাগুরার মোহাম্মদপুরের ফজলুর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান ও যশোর সদরের কাজী আনোয়ার হোসাইনের ছেলে মো. মোশাররফ হোসাইন।

এছাড়া প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন আব্দুল হাই, রানা, হোসাইন আলী ও কুদ্দুস।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে নিহত ৮ বাংলাদেশির পরিচয় জানায় সৌদিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।
তারা হলেন-
১) শহিদুল ইসলাম পিতা: মো. শরিয়ত উল্লাহ, সেনবাগ, নোয়াখালী।
২) মামুন মিয়া পিতা: আব্দুল আওয়াল, মুরাদনগর, কুমিল্লা।
৩) মোহাম্মদ হেলাল, নোয়াখালী।
৪) সবুজ হোসাইন, লক্ষ্মীপুর।
৫) রাসেল মোল্লা, মুরাদনগর কুমিল্লা।
৬) মোঃ আসিফ, মহেশখালী কক্সবাজার।
৭) মোঃ ইমাম হোসাইন রনি পিতা: আব্দুল লতিফ, টঙ্গী, গাজীপুর।
৮) রুক মিয়া পিতা: কালু মিয়া, চাঁদপুর।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আল-এখবারিয়া টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, হতাহতদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। সৌদি সিভিল ডিফেন্স ও রেড ক্রিসেন্টের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালায়।
আরও পড়ুন: জ্যাকসন হাইটসে সড়কের নাম ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’
আসির প্রদেশের ঘটনাটি ইসলামের পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনায় নিরাপদে যাওয়ার বিষয়টিকে কার্যত চ্যালেঞ্জে ফেলে দিয়েছে। রমজানে বহু মানুষ ওমরাহ করতে মক্কায় যাচ্ছেন এবং হজের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি, এমন সময়ে এ ঘটনা ঘটলো।
একাত্তর/আরএ
