মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হচ্ছে নানা কর্মসূচি। বায়ান্নর ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাজপথে আল্পনা, প্রভাতফেরি এবং আলোচনা সভার মাধ্যমে বিদেশের মাটিতেও এক টুকরো বাংলাদেশ ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং মালয়েশিয়ায় অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে দিবসটি পালিত হয়েছে।
কলকাতায় ভাষার উৎসব: সংস্কৃতির রাজধানী হিসাবে খ্যাত কলকাতায় বরাবরই ভিন্ন আমেজে মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি শুরু হয়। ভোরে প্রভাতফেরির মাধ্যমে রাজপথ প্রদক্ষিণ করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
দিবসটি উপলক্ষে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসেও নানা কর্মসূচি পালিত হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক গান এবং আলোচনা সভার মাধ্যমে দুই বাংলার ভাষাপ্রেমী মানুষ শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করেন।

মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের শ্রদ্ধা: দূর প্রবাসেও ভাষা শহীদদের স্মৃতি অম্লান রাখতে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন বিশেষ আয়োজন করে। সকালে হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের নিয়ে শহীদ মিনারের অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী।
হাইকমিশনারের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের প্রবাসী বাংলাদেশিরা সারিবদ্ধভাবে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব এবং বিশ্ব মানচিত্রে এই দিবসের অনন্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। প্রবাসের নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষার মর্যাদা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয় এই অনুষ্ঠানে।
শহীদ মিনারের ফুলেল শ্রদ্ধা থেকে শুরু করে বিদেশের রাস্তায় আঁকা আল্পনা, সবই প্রমাণ করে যে, ১৯৫২ সালের সেই আত্মত্যাগ আজ কেবল বাংলাদেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বজুড়ে ভাষাগত বৈচিত্র্য রক্ষা এবং নিজ নিজ মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতীক হয়ে উঠেছে আমাদের অমর একুশে।
