এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে আগুনের ঘটনায় দগ্ধ ২৩ জনকে শনাক্ত করা যায়নি। ১৪ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গণজানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয় বরগুনার পোটকাখালি কবরস্থানে। এর আগে শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় সার্কিট হাউজে হয় গণজানাজা।
এতে অংশ নেন স্বজনহারা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
কফিনের সারিতে অঙ্গার হয়ে যাওয়া প্রিয় মানুষের মুখ। তাদের শনাক্ত করতে সকাল থেকেই ভিড় ছিলো হাসপাতালের দরজায়। মলিন চোখগুলোর অপেক্ষা প্রিয় মানুষকে খুঁজে পাবার।
বরগুনা জেলা হাসপাতালে পড়ে থাকা সারিবদ্ধ ৩০টি কফিন। কারও নাম পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে জমা হওয়া কফিনের চাইতে স্বজনদের খোঁজ চাওয়া মানুষের সংখ্যাই বেশি।
হাসপাতালে আসা অনেকেই প্রিয় মানুষটির খোঁজ না পাবার কথা বলেছেন। অনেকে জানান, আগুনে পুড়ে যাবার কারণে প্রিয়জনকে শনাক্তও করা যাচ্ছে না।
তবে ১৪ জনের মরদেহ স্বজনেরা শনাক্ত করে নিয়ে গেছেন আর বাকি ২৩ জনকে দাফন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে শনাক্তের জন্য তাদের ডিএনএ নমুনা রাখা হয়েছে।
পরিচয় না পাওয়া এই ২৩টি মরদেহ নেয়া হয় বরগুনা সার্কিট হাউজে। সেখানে আয়োজক করা হয় গণজানাজার। এতে অংশ নেন স্বজনহারা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে মৃত্যুর পরেও স্বজনের ছোঁয়া পায়নি এই পায়নি এসব মরদেহ। দুদিন আগেও বাবা-মার পরিচয় ছিলো যে মানুষটির, তার পরিচয় এখন এক একটি সংখ্যা।
বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, দাবি করা স্বজনদের নমুনাও সংগ্রহ করা হবে। ডিএনএ ফলাফল মিললেই কবর বুঝিয়ে দেয়া হবে।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন ভবনে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে, যাতে নিখোঁজদের স্বজনরা সেখানে খোঁজ নিতে পারেন এবং শনাক্তের জন্য ডিএনএ নমুনা দিয়ে আসতে পারেন।
তিনি জানান, সুগন্ধা নদীতে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ড মিলে নিখোঁজদের সন্ধান চালাচ্ছে। আর কোন মরদেহ পাওয়া গেলে তা শনাক্ত করে স্বজনদের খবর দেয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, একসাথে এতোগুলো কবরের ভার আর কখনই নিতে হয়নি বরগুনাবাসীকে।
