বরগুনার বেতাগীতে কিশোর গ্যাং, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, অবৈধ দখলবাজি এবং ছড়িয়ে পড়া অনলাইন জুয়া চিরতরে নির্মূল করতে বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দুই মাসের (৬০ দিন) সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মণি।
রোববা দুপুর আড়াইটার দিকে বেতাগী উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে উপজেলা উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ওসিকে এই স্পষ্ট আলটিমেটাম দেন।
আইনশৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনাকালে বেতাগী থানার ওসি হারুনুর রশিদকে সরাসরি উদ্দেশ করে চিফ হুইপ বলেন, বেতাগী থানাধীন এলাকায় কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দখলবাজ কিংবা অনলাইন জুয়াড়ির অস্তিত্ব থাকবে- তা আমি কোনোভাবেই বরদাশত করব না। এখানে হয় চাঁদাবাজ, কিশোর গ্যাং ও অনলাইন জুয়া থাকবে, নয়তো বেতাগী থানায় ওসি থাকবে।
চিফ হুইপের এই কড়া বার্তার জবাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি হারুনুর রশিদ সভায় দাঁড়িয়ে বলেন, "স্যার, আমিই বেতাগী থানায় দায়িত্ব পালন করব। আপনার নির্দেশ অনুযায়ী এলাকায় কোনো কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ বা অনলাইন জুয়ার অস্তিত্ব থাকবে না।
সভায় সম্প্রতি বেতাগীতে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক বা অসামাজিক সংগঠনের গোপন মিছিল হওয়ার খবরের বিষয়টি টেনে এনে চিফ হুইপ জানান, এ ধরনের কোনো অপতৎপরতাও তিনি বরগুনা-২ আসনে দেখতে চান না।
রাজনৈতিক নাম ভাঙিয়ে অপরাধ করার প্রবণতার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে নুরুল ইসলাম মণি বলেন, আমি নীতি ও আদর্শের জায়গায় অত্যন্ত শক্ত মানুষ। আমার নাম ভাঙিয়ে কিংবা ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করে এখানে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা জমি-সম্পদ দখলবাজি চালানো যাবে না। কেউ গায়ের জোরে সাধারণ মানুষের সম্পদ কেড়ে নেবে, আর প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমরা মুখ বুজে বসে থাকব, তা হতে দেওয়া হবে না।
এলাকার মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সর্বস্তরে অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে সর্বাত্মক নির্দেশনা দেন চিফ হুইপ।
