করোনা মন্দা কাটিয়ে অর্থনীতির চাকা এখন জোরে ঘুরছে। বেসরকারী খাতে অর্থের চাহিদা বাড়ছে জোরেসোরে। আর তাই তো ঋণ প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে ১১ শতাংশ ছুঁয়েছে। তবে বিনিয়োগে চাহিদ আমদানির খরচ বাড়াচ্ছে বলে তথ্য দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল ঋণ পেলেই হবে না, বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করে অর্থনীতির গতি ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
করোনা সংক্রমণের শুরুর সময় থেকে সেবা ও পন্যের চাহিদা কমে আসায় কলকারখানা ও শিল্প উৎপাদন মন্থর হয়। ফলে নতুন কিংবা পুরোনো বিনিয়োগে অর্থ লগ্নির চাহিদা ছিলো না যেনো উদ্যোক্তাদের থেকে।
সে অবস্থায় আর বেসরকারী খাতে ঋণ বিতরণ কমেছিলো। অবস্থা এমনই ছিলো যে ২০১৯ সালেও প্রতি একশো টাকায় প্রায় ১০ টাকা যেখানে ঋণ দিয়েছিলো ব্যাংক খাত ২১এর অক্টোবরের তা আট টাকায় নামে।
যদিও এখন বদলেছে দৃশ্যপট। আবারো সচল হচ্ছে অর্থনীতির চাকা। ফলে বেসরকারী ঋণের পালে লেগেছে হাওয়া। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এখানে প্রবৃদ্ধি এখন ১৩ মাসের সর্বোচ্চে উঠেছে।
যদিও চলতি অর্থবছরেই আবার পণ্য আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৫৪ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, শিল্প স্থাপন কিংবা অভ্যন্তরিণ বাজারে দাম বাড়ে এমন সব পণ্য দেশে আনতে খরচও বেড়েছে।
আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণও বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে, বেসরকারী খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, বেসরকারী খাতে ঋণ আর আমদানি বাড়লেও বিনিয়োগ পরিবেশ এখনও করোনার ধাক্কা সামলে ওঠা সহায়ক নয়।
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, কোভিডের ক্ষতি মোকাবিলা করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকারকে আরো বেশি বিনিয়োগ সহায়ক নীতি ও পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
তারা বলছেন, কোভিডের সময় অর্থনীতির প্রাণ ভোমরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র যেসব প্রতিষ্ঠান ঝরে পড়েছে সেসব উদ্যোক্তাদের বাজারে ফেরাতে ওয়ানস্টপ সেবা ও ঋণ পাওয়াটা নিশ্চিত করতে হবে।
