শুধু চাহিদা আর যোগানের সূত্রের কারণে নয়, দেশে পণ্যমূল্য বাড়ে নানা অজুহাতে। কেবল ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান নয়, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো একযোগে কাজ না করলে বাজার স্থিতিশীল হবে না। এক্ষেত্রে গঠন করা যেতে পারে মন্ত্রিসভা কমিটিও।
শনিবার, এডিটর্স গিল্ডের গোলটেবিলে উঠে আসে এসব মতামত। এ সময়, কেরোসিন ও ডিজেলের দাম কমানোর ইঙ্গিত দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।
খাদ্যপণ্যের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি আর বাজারের অসংগতি এখন সর্বব্যাপী আলোচনা। তাই শনিবারের নিয়মিত গোলটেবিলে এটি তুলে আনে এডিটর্স গিল্ড।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চালের মূল্যবৃদ্ধিও ব্যাপক আলোচিতে। বেড়েছে আট-ময়দার দামও। কিন্তু খাদ্য সচিব ইসমাইল হোসেন জানান, সরকারি গুদামে এখন চালের মজুদ ৫০ বছরের সর্বোচ্চ।
তবে, ভোক্তা অধিদপ্তরে প্রধান এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, চাহিদা-যোগান সূত্র নয় বাংলাদেশে দাম বাড়ে নানা অজুহাতে।
বাজারে স্বস্তি আনতে ব্যবসায়ী সংগঠন ও সরকারের সব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে একযোগ কাজ করতে হবে।
এ সময় এফবিসিসিআই নেতারা বলেন, সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোকেই ঠেকাতে হবে অসাধু ব্যবসায়ীদের।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন খাদ্য মূল্য ও সরবরাহ এখন সবচে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। অনতিবিলম্বে এনিয়ে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা জরুরি।
আলোচনায় অর্থনীতিবিদেরা বলেন, বৈশ্বিক প্রভাবে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন। তবুও অর্থনৈতিক বৈষম্যে পীড়িত প্রান্তিক মানুষকে রক্ষায় সরকারের দায় আছে।
আলোচনায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম জানান, সাধারণ মানুষের কথা ভেবে সরকার কেরোসিন ও ডিজেলের দাম কমানোর চিন্তা করছে।
আরও পড়ুন: আগামী মাসে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির আরও উন্নতি: প্রতিমন্ত্রী
তিনি আরও বলেন, খাদ্যসহ মৌলিক পণ্যে আমদানি নির্ভরতা এখন দেশের অর্থনীতির বড় দুর্বলতা তাই ভুগছে ভোক্তা।
আলোচনায় সবশেষে বলা হয়, এই মূল্যস্ফীতি বৈশ্বিক হলেও দেশের সাধারণ মানুষের কষ্ট কমাতেই হবে। আর, মুক্তবাজারকেও নীতি ও দায়বদ্ধতার আওতায় আনতে হবে।
একাত্তর/এসি
