পুঁজিবাজার স্থিতিশীল হলেই বিভিন্ন শেয়ারের দামের ওপর দেয়া ফ্লোর প্রাইস তুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।
ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও শেয়ার বিক্রির ন্যূনতম দাম বা ফ্লোর প্রাইস দেয়া হয়েছিলো বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে সম্প্রতি বিদেশ থেকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বেড়েছে বলেও জানান বিএসইসির চেয়ারম্যান।
অর্থনীতিতে পুঁজিবাজারের চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভবনা নিয়ে মঙ্গলবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিবলী রুবাইয়াত এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি বুঝি- মানুষের পুঁজি বিপদে পড়বে না, সঙ্গে সঙ্গে ফ্লোর প্রাইস তুলে দেবো। খুব শিগগির একটু শক্ত অবস্থান দেখতে পেলে, তখন আমরা যদি বুঝি মানুষের পুঁজির নিরাপত্তা বা অনুভব করি বিপদে পড়বে না, সঙ্গে সঙ্গে আমরা ফ্লোর প্রাইস তুলে দেবো। খুব তাড়াতাড়ি ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার চেষ্টা আমাদের মধ্যে আছে।
ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন দর সীমার মাধ্যমে কোনো কোম্পানির শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সীমা বেধে দেয়া। অর্থাৎ বেধে দেয়া দরের নিচে কোনোভাবেই লেনদেন করা যাবে না।
ফ্লোর প্রাইস বেধে দেয়ায় শেয়ারের সর্বনিম্ন দরে বিক্রেতা থাকলেও বেশিরভাগ সময়ই ক্রেতা পাওয়া যায় না। এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে আসছেন বিনিয়োগকারীসহ বাজার সংশ্লিষ্টরা।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের দুই পুঁজিবাজারে প্রথম ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হয় ২০২০ সালের মার্চে। তখন করোনাভাইরাস মহামারির শুরুতে পুঁজিবাজারে যে ধস নামে, সে সময় ১৯ মার্চ বিএসইসি প্রথমবারের মত ‘ফ্লোর প্রাইস’ আরোপ করে।
এরপর ২০২১ সালের ৭ এপ্রিল প্রথমবারের মত ৬৬টি কোম্পানির ‘ফ্লোর প্রাইস’ প্রত্যাহার করে একদিনে সেগুলোর দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ২ শতাংশ করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে ৩ জুন প্রত্যাহার করা হয় আরও ৩০টি কোম্পানির ‘ফ্লোর’। এই ৯৬টি কোম্পানির চিত্র পর্যালোচনা করে ১৭ জুন ফ্লোর প্রাইস পুরোপুরি তুলে দেওয়া হয়।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে পুঁজিবাজারে দরপতন শুরু হলে ৩১ জুলাই থেকে ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হয়। ২১ ডিসেম্বর ১৬৯টি কোম্পানির ‘ফ্লোর প্রাইস’ তুলে দিয়ে বিএসইসি এসব কোম্পানির দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা কমিয়ে এক শতাংশ করে দেয়।
কিন্তু এতে ফল না আসায় গত মার্চে ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া ১৬৯ কোম্পানির ওপর আবার ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হয়।
‘ফ্লোর’ তুলে দেওয়ার পর গত ২২ ডিসেম্বর থেকে টানা দরপতনের কারণে বহু কোম্পানি ৩০ শতাংশেরও বেশি দর হারিয়ে ফেলায় সমালোচনার মুখে বুধবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।
একাত্তর/আরবি
