বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে গ্রাহকরাও এখন বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করছে। এরিমধ্যে দেশে প্রায় দুই হাজার গ্রাহক নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে নিজের ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রির সুবিধা পাচ্ছেন। এই প্রক্রিয়া আরও বাড়াতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা।
নারায়ণগঞ্জের আলীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্লাস রুমের ফ্যান ও বাতি চলে সৌর বিদ্যুতে। এছাড়া আশপাশের কিছু বাড়িতে বিদ্যুৎ দেয়া হচ্ছে চাহিদা মতো। ডিপিডিসির বিতরণ এলাকায় ৩৩০ জন গ্রাহক মোট ৩ দশমিক ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে এমন উদ্যোগে গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল যেমন কমছে, তেমনি বিতরণ কোম্পানিগুলোর ওপর চাপও কমছে।
ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী আবদুল্লাহ নোমান বিদ্যালয়টির উদাহরণ দিয়ে বলেন, সোলারের ক্যাপাসিটি যদি ছয় কিলোওয়াটের ভেতরে থাকে তাহলে তাদের আর বিল দিতে হবে না। যদি এর বাইরে যায়, তাহলে যতটুকু বাড়তি ব্যবহার হবে- শুধু তার বিল দিলেই হবে।
ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান বলেন, পাবলিক সেক্টরে প্রতিটা লোককে সচেতন করতে আমরা কাজ করছি।
বিতরণ প্রতিষ্ঠান ডেসকোও এখন গ্রাহকের সৌর বিদ্যুৎ নেট মিটারিং স্থাপনে আগ্রহী। সাঁতারকুল এলাকায় ফরটিজ গ্রুপের কারখানার ছাদে স্থাপন করা হয়েছে সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল। কারখানায় ব্যবহারের পাশাপাশি ছুটির দিনে উৎপাদিত বিদ্যুৎ তারা গ্রিডে সরবরাহ করছেন। এতে প্রতিষ্ঠানটির মাসিক বিদ্যুৎ বিল কমেছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।
ফরটিজ গ্রুপের জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক অহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের চাহিদা সামাল দেওয়ার জন্য আমরা এ পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি।
ডেসকো এলাকার মেট্রোরেল স্টেশন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদে সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের পরিকল্পনা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কাওসার আমীর আলী।
আরও পড়ুন: এশিয়া কাপের দল ঘোষণা, নেই মাহমুদউল্লাহ
গ্রাহকের ব্যবহারের পর যে বিদ্যুৎ বিতরণ লাইনে যাবে প্রতি বছর জুলাই মাসে ৩৩ কেভি চাপের পাইকারি দাম অনুযায়ী গ্রাহকের সেই টাকা ফেরত দেয়া হবে বলেও জানান তারা।
একাত্তর/আরএ
