কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ আনা যাচ্ছে না কাঁচাবাজার। শীতের সবজি এলেও দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসেনি। বিশেষ করে ভেলকি দেখাচ্ছে মরিচ আর বেগুনসহ টমেটো ও করলার দাম কেজি প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা করে বেড়েছে ফুলকপি ও বাঁধাকপির দামও বাড়তি। মাঝারি একটি ফুলকপি এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে। এছাড়া চাল, পেঁয়াজ, আলু ও মসলার দামও ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী।
সব মিলিয়ে সাধারণ ক্রেতারা স্বস্তিতে নেই। সবজির বাড়তি দাম নিয়ে বিক্রেতারা সেই একই অজুহাত দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের দাবি, বন্যার কারণে উৎপাদন কম। তাই নতুন সবজির দাম সেভাবে কমছে না। কিন্তু এসব সব মানতে নারাজ ক্রেতারা। তারা বলছেন দাম বাড়াতে ব্যবসায়ীদের অজুহাত সব সময় প্রস্তুতই থাকে।
শুক্রবার ছুটির দিনে সরেজমিনে রাজধানীর বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, শীতের সবজির সরবরাহ শুরু হলেও দাম নিয়ে ক্রেতারা অস্বস্তিতে। কারণ ভর মৌসুমে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউসহ শীতের পর্যাপ্ত সবজির দেখা মিললেও দাম রয়েছে বেশ চড়া। এর মধ্যে ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচা মরিচ, করলা ও টমেটোর দাম কেজি প্রতি ২০ টাকা বেড়ে যথাক্রমে ১২০, ৬০ ও ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দামও মানভেদে ৫০-৬০ টাকায় পৌঁছেছে। আর আলুর দামও কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৭০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। দেশি পেঁয়াজ ১৫০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে গত সপ্তাহের তুলনায় দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কমেছে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা করে। চায়না আদার দাম কমেছে ২০ টাকা। অপরদিকে ভারতীয় আদার দাম ২০ টাকা কমেছে। এছাড়া অন্যান্য পণ্যের দাম রয়েছে অপরিবর্তিত।
এছাড়া বাজারে আকার ও ওজন অনুযায়ী ইলিশ মাছ ৮০০-১৭০০ টাকা, রুই মাছ ৩৫০-৬০০ টাকা, কাতল মাছ ৩৫০-৫০০ টাকা, কালবাউশ ৪০০-৮০০ টাকা, চিংড়ি ৭৫০-১৪০০ টাকা, কাঁচকি ৬০০ টাকা, কৈ ২০০-৬০০ টাকা, পাবদা ৪০০- ৬০০ টাকা, শিং ৪০০-১২০০ টাকা, টেংরা ৪৫০-৬০০ টাকা, বেলে ১০০০-১২০০ টাকা, বোয়াল ৮০০-১০০০ টাকা, কাজলী মাছ ৮০০-১০০০ টাকা, শোল ৮০০-১০০০ টাকা, মেনি মাছ ৬০০-৭০০ টাকা, চিতল ৭০০-১০০০ টাকা, রূপচাঁদা মাছ ১০০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা কেজি দরে। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া ওজন অনুযায়ী ব্রয়লার মুরগি ১৮০-২০৫ টাকা, কক মুরগি ২৯০-৩০০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৮৫-৩০০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের মুরগির প্রতি ডজন লাল ডিম ১৪৪-১৪৫ টাকা, সাদা ডিম ১৪০-১৪৫ টাকা।
দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগি দাম বেড়েছে ৭ টাকা, কক মুরগির দাম কমেছে ২ টাকা, লেয়ার মুরগির দাম কমেছে ৩-১০ টাকা এবং দেশি মুরগির দাম বেড়েছে ৫০ টাকা। আর প্রতি ডজনে ফার্মের মুরগির লাল ও সাদা ডিমের দাম বেড়েছে ৪-৫ টাকা।
প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬৭ টাকা, খোলা সয়াবিন ১৬৫ টাকা, প্যাকেট চিনি ১৩৫ ও খোলা চিনি ১৩০, টাকা, দুই কেজি প্যাকেট ময়দা ১৫০ টাকা, আটা দুই কেজির প্যাকেট ১১৫ টাকা, খোলা সরিষার তেল প্রতি লিটার ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি লিটারে খোলা সরিষার তেলের দাম কমেছে ১০ টাকা।
পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার
অনলাইনে আয়কর পরিশোধের খরচ কমলো