রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এম আকাশ নামে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার মূল হোতা মোয়াজ্জেম হোসেন প্রান্ত সহ ০৩ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন র্যাব।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
গ্রেফতার হওয়া তিনজনের মধ্যে রয়েছেন- মানিকগঞ্জের মো. মীর মোয়াজ্জেম হোসেন, সিরাজগঞ্জের মো. ফিরোজ এবং নীলফামারীর মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই তিনজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে র্যাব জানিয়েছে।
গত বুধবার রাতে মোহাম্মদপুরের টিক্কাপাড়ায় নির্মাণাধীন একটি স্কুল ভবনে চোর সন্দেহে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আকাশকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
পিটিয়ে হত্যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নিহতের ফুফু বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হত্যাকারীদের ধরতে অভিযান শুরু করে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই তিনজনকে গ্রেফতার করে।
র্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত বুধবার রাত ১০টার দিকে আকাশ ও তার বন্ধুরা মিলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি স্কুলের নির্মাণাধীন সাইটে যায়। এ সময় সাইটের শ্রমিকরা তাদেরকে ধাওয়া করে। বন্ধুরা পালিয়ে গেলেও আকাশকে ধরে তাদের থাকার জায়গায় নিয়ে যায় শ্রমিকরা।
‘এরপর মোয়াজ্জেমের নির্দেশে আকাশকে হাত পা বেঁধে বাঁশের সাথে ঝুলিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় লোহার রড, লাঠি ও স্ট্যাম্প দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়।’
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আকাশকে সারারাত পৈশাচিক ও নির্মমভাবে ব্যাপক মারধর করায় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়। বৃহস্পতিবার সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তার ফুফুকে ফোন করে।
ফুফু এসে আকাশকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে যায়। সকাল আটটায় দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন আকাশ।
আর মৃত্যুর খবর শুনেই গা ঢাকা দেয় অভিযুক্ত ওই তিনজন। পরে র্যাবের গোপন আভিযানিক দলের হাতে ধরা পড়ে তারা।
মোয়াজ্জেম ছিলেন নির্মাণাধীন সাইটের সাইট ইঞ্জিনিয়ার। তাকে রাজধানীর রমনা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র্যাব।
ফিরোজ ও মোস্তাফিজুর নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। ফিরোজকে সাভারের হেমায়েতপুর এবং মোস্তাফিজুরকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ধরা হয়।
