গোয়েন্দা পরিচয়ে ডাকাতি করার সময় পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে চারজন। রাজধানীর তাঁতীবাজারে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে অপহরণের সময় তার চিৎকারে এগিয়ে আসে পুলিশ। ডাকাতদের কবল থেকে রক্ষার পাশাপাশি উদ্ধার করা হয় লুট করা ৩৯ ভরি স্বর্ণ। এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের মধ্যে একজন সাবেক পুলিশ ও একজন সাবেক সেনা সদস্য।
রাজধানীর তাঁতীবাজারে মামার জুয়েলারির দোকান থেকে মঙ্গলবার রাতে ৩৯ ভরি স্বর্ণ ও প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা নিয়ে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন এক ব্যবসায়ী। পোস্তগোলা এলাকায় এলাকায় এলে কালো রঙের একটি মাইক্রোবাস তার গতিরোধ করে। তারপর, নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয় তাকে তাকে তুলে নেয় মাইক্রোবাসে থাকা ডাকাতরা।
মাইক্রোটি বাবুবাজার ব্রিজে উঠার সময় উল্টোপথে ইউটার্ন করতে গিয়ে ট্র্যাফিক পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। উল্টোপথে আসার কারণ জানতে চাইলে ডাকাতদের একজন নিজেকে সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার পরিচয় দেন। এই ফাঁকে অপহরণের শিকার ব্যবসায়ী চিৎকার শুরু করলে চার ডাকাতকে হাতে নাতে আটক করে ট্র্যাফিক পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন- আলম, আলমগীর হোসেন, পলাশ শেখ ও সাব্বির হোসেন।
বুধবার রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ড. খ. ম মহিদ উদ্দিন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার আলম বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্য ও আলমগীর হোসেন সেনাবাহিনীর সদস্য বলে পরিচয় দেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি করে আসছিলো।
খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা বাজারের জ্যোতি জুয়েলার্সের মালিক তপন কুমার সাহা। তিনি ঢাকার তাঁতীবাজার তার মামা প্রানতোষ কর্মকারের রাজকোট বুলিয়ন এন্ড জুয়েলার্স প্রতিষ্ঠান থেকে স্বর্ণ কেনা ও মালামাল তৈরি করে নিজের প্রতিষ্ঠান ফরিদপুরে আলফাডাঙ্গা নিয়ে যায়।
২৮ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকালে তিনি ফরিদপুর থেকে ঢাকা তাঁতীবাজার আসেন এবং অর্ডারের ৩৮ দশমিক ৯৭০ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার এবং মামার কাছ থেকে ধার হিসাবে ৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা একটি হাত ব্যাগে নিয়ে ফরিদপুরে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাবার জন্য পোস্তগোলার উদ্দেশ্যে সিএনজিতে রওনা হন।
পথে শ্যামপুর থানার ঢাকা মাওয়া রোডে পোস্তগোলা ব্রিজের পূর্ব পাশের ঢালে পৌঁছালে কেরানীগঞ্জের দিক থেকে আসা একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস হঠাৎ সিএনজির গতিরোধ করে। তারপর আসামিরা মাইক্রোবাস থেকে নেমে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে সিএনজি থেকে তপন কুমারকে টেনে-হিঁচড়ে মাইক্রোতে উঠিয়ে নেয় এবং তার হাত পা ও চোখ বাধার চেষ্টা করে।
এ সময় তপন কুমার সাহা দিলে তাকে কিল ঘুসি মেরে আহত করে। এক পর্যায়ে তাকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ভর্তি ব্যাগ এবং ২টি মোবাইল কেড়ে নেয়। আসামিরা গাড়িটি নিয়ে ঢাকার দিকে যেতে থাকে। কিছু দূরে যাওয়ার পরেই রাস্তায় যানজটে গাড়িটি ঘুরিয়ে উল্টোপথে আসার সময় সার্জেন্ট গাড়িটি সিগন্যাল দিয়ে থামায় এবং গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চায়।
তখন পলাতক আসামি মাসুদ সার্জেন্টের কাছে নিজেকে সেনাবাহিনীর অফিসার পরিচয় দেয়। অপহৃত ব্যক্তি তপন কুমার তখন পুলিশকে দেখে চিৎকার দিলে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় শ্যামপুর থানা পুলিশের টহল টিম ঘটনাস্থলে এলে ডিউটিরত সার্জেন্ট অন্যান্য সার্জেন্ট, টিআই এবং পুলিশসহ শ্যামপুর থানা পুলিশ মিলে আসামিদের আটক করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে সর্বমোট ৩৮ দশমিক ৯৭০ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার এবং ৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আসামিদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।
কঙ্কাল থেকে রোমহর্ষক খুনের রহস্য উন্মোচন