ব্যবসায়ী আদম তমিজি হক মানসিক ভারসাম্যহীন কিনা সেটি পরীক্ষা করাতে তাকে গুলশানের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। অসংলগ্ন কথা বলায় তাকে চিকিৎসক দিয়ে পরীক্ষা করানো হচ্ছে। সকালে নিজ কার্যালয়ে এ কথা বলেন ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ।
রাষ্ট্র ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলায় ব্যবসায়ী আদম তমিজি হককে শনিবার রাতে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তমিজি হক দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক অসংলগ্ন ও বিতর্কিত মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করেন।
আদম তমিজি সুস্থ মাথায় এসব কথা বলেছেন কিনা প্রথমে সেটি পরিক্ষা করতে চায় পুলিশ। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন হলে কিছু করার নেই। তবে যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়, তাহলে আর কারা জড়িত তা তদন্ত করে বের করা হবে।
রোববার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে তিনি বলেন, তমিজি হকের বিরুদ্ধে দক্ষিণখান থানায় মামলা হয়েছে। এছাড়া রমনা থানায় ওয়ারেন্ট ইস্যু রয়েছে। সবকিছু মিলে আমরা শনিবার গ্রেপ্তার করেছি। আদম তমিজি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসে বিভিন্ন ধরনের অসংলগ্ন কথা বলেছে।
ডিবি প্রধান জানান, তমিজি ব্যবসায়িক ও পারিবারিক কারণে মানসিক বে বিপর্যস্ত থাকতে পারেন। কারণ, সামাজিক মাধ্যমে এসে তিনি তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট পুড়িয়েছেন। সে ইসরাইলকে আহবান জানিয়েছে তাকে বাংলাদেশ থেকে উদ্ধার করার জন্য। মার্কিন মেরিন সেনাকে বলছে সরকার তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে তাকে উদ্ধার করার জন্য। আরও বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা সামাজিক মাধ্যমে বলেছে। তার এমন সব কথা শুনে মনে হয়েছে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ।
তিনি বলেন, এ সব কথা শুনে আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে, আসলেই সে কি মানসিক ভারসাম্যহীন। তা না হলে একটি লোক এভাবে কথা বলে কেন। সে অনেকগুলো বিয়ে করেছে, তার পারিবারিক অনেক সমস্যা রয়েছে। বিভিন্ন কারণেই মনে হয়েছে সে ভারসাম্যহীন। যার কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ভারসাম্যহীন এটা তো আমরা বলতে পারছি না।
তাই, সে যদি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে থাকে তার জন্য তমিজিকে আমরা ডাক্তারের কাছে পাঠিয়েছি। সেখানে ডাক্তাররা আছে। তারা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। পরীক্ষা করার পর সে যদি মানসিকভাবে ঠিক থাকে তখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবো। সে যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অসংলগ্ন কথা বলেছে, বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম করেছেন সেগুলো কেন করেছেন।
