সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ি ও গোলাপবাগের রাস্তা দ্রুত সংস্কার করা না হলে বাস বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন মালিক-শ্রমিকরা। ঢাকা-মাওয়া নতুন রেল লাইন চালু হলেও দেড় মাস ধরে বন্ধ সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের সামনের চার লেনের সড়কটি। ফলে ঈদযাত্রায় চার বিভাগের লাখো মানুষের জন্য অপেক্ষা করছে ভোগান্তি।
সায়েদাবাদ টার্মিনালের আগে হানিফ ফ্লাই ওভারের নিচের চার লেনের সড়কটি দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ। নতুন রেল লাইন বসাতে বন্ধ করা হয় সড়টি। সেই রেল লাইনও হয়েছে দুমাস আগে। কিন্তু সড়কটি আর ঠিক হয়নি। ফেলে রাখা হয়েছে নির্মাণ সামগ্রী।
দুই লেনের সড়ক দিয়ে কোনোমতে চলছে গাড়ি। কিছু সময় পরপরই সৃষ্টি হচ্ছে গাড়ির দীর্ঘ জট। টার্মিনালের সামনে খুঁড়ে রাখা হয়েছে রাস্তা। রোজ ঘটছে দুর্ঘটনা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কত যে রিকশা ভাঙছে বলার বাইরে। আজ দুইটা মাস চলছে, একটা রানিং রোড, এবাবে কি থাকে?
যাত্রাবাড়ি মোড়ের অবস্থাও বেহাল। খানাখন্দে ভরা সড়কে যেনো হামাগুড়ি দিয়ে চলছে গাড়ি। দখল আর অবৈধ বাজারতো আছেই। ১০ মিনিটের পথে এখনই সময় লাগছে এক ঘন্টা।
এক বাসচালক বলেন, এখনই অবস্থা শোচনীয়। ঈদেতো আরও খারাপ অবস্থা হবে। আধঘণ্টার রাস্তা তিন ঘণ্টা লাগতে পারে। মানুষ চলাফেরা করবে কীভাবে?
ঈদযাত্রায় চট্টগ্রাম সিলেট খুলনা ও বরিশাল; এই চার বিভাগের অন্তত ৫০ লাখ মানুষের রাজধানী ছাড়ার প্রধান পথ এটি। পরিবহন মালিকরা বলছেন, দ্রুত সড়ক ঠিক করা না হলে তারা বাস বন্ধ করে দেবেন।
পরিবহন নেতাদের অভিযোগ, সিটি কর্পোরেশনসহ দ্বায়িত্বশীল সংস্থাগুলোকে বার বার জানিয়েও কিছু হয়নি।
পরিবহন শ্রমিকরা ও মালিকরা বলছেন, আমরা অসহায় হয়ে গেছি। এভাবেতো হয় না। দরকার হলে বাস বন্ধ করে দেব। দেখি মানুষ কী করে যায়। সবার সঙ্গে কথা বলবো। যদি রাস্তার কোনো উন্নতি না হয় তাহলে পরিবহন বন্ধ করে দেয়ার চিন্তা-ভাবনা আছে।
সায়েদাবাদ বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম, বলেন, সরকার বলছেন, জনগণকে সুষ্ঠুবাবে বাড়িতে পৌঁছে দিতে হবে। এবার সায়েদাবাদের অবস্থা খুব করুণ হবে। দীর্ঘ যানজট হবে। অবস্থা শোচনীয় থাকবে।
যাত্রাবাড়ি মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের সামনেই বেশিরভাগ রাস্তা দখল দাড়িয়ে থাকে বাস। অভিযোগ আছে রাস্তা দখল করে পার্কিং, ফুটপাতের দোকান, কাঁচাবাজার সব কিছুই চলে মোটা অংকের চাঁদার বিনিময়ে। তাই ইচ্ছে করেই বাঁচিয়ে রাখা হয় এই জঞ্জাল।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, যারা এই টাকা উঠায় তাদের যদি জিজ্ঞেস করেন এই টাকা কোথায় যায়। তাহলে বলবে উপর পর্যন্ত যায়। পুলিশ টাকা খায়, নেতা টাকা খায়, পাতি নেতা টাকা খায়। আমরা আমরা সাধারণ মানুষ থাকি ভোগান্তিতে।
