ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে বিআরটিএ ও মালিকপক্ষ। ১৫ দিনের মধ্যে অভিযানের নামে হয়রানি বন্ধ না হলে ধর্মঘর্টে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে মালিকপক্ষ। তাদের দাবি, ফিটেনেস নির্ধারণ করতে হবে গাড়ির সক্ষমতার ওপর৷ আর, বিএআরটির সোজা কথা, ২০ বছরের বেশি বয়সের বাস ও ২৫ বছরের ওপরের কোন ট্রাক চলতে পারবে না সড়কে।
এখনও লক্কড়-ঝক্কড় পরিবহনের দখলে রাজধানীর সড়ক। সরকার ছয় মাস সময় বেঁধে দিলেও এখনও রাজধানীর সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ফিটনেসবিহীন গাড়ি। ঢাকার রাস্তায় বের হলেই দেখা যায়, কালো ধোঁয়ায় সড়ক অন্ধকার করে ছুটে চলছে বহু বাস। অনেকগুলোরই সিগনাল লাইট নষ্ট, ভাঙা গ্লাস, মরিচা ধরা বডি। স্বয়ং বিআরটিসির বাসেই নেই বৈধ কোন কাগজপত্র।
অথচ রাজধানীতে চলতি মাস থেকে গণপরিবহনের এমন চিত্র আর দেখার কথা ছিল না। গেল বছরের অক্টোবরে ৬ মাস সময় বেঁধে দিয়ে ফিটনেসবিহীন এসব যানবাহন বন্ধের ঘোষণা দেয় সরকার। রোববার ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী চলা অভিযানের প্রথমদিনেই রাজধানীর ফার্মগেটে এলাকা ফাঁকা হয়ে যায়। বিআরটিএ চেয়ারম্যান অভিযানের উদ্বোধন করে তিনি নিজেই অভাব হয়ে যান।
তবে সারাদেশে চলা প্রায় সত্তর হাজার ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বিগত সরকারের সময়ের কার্যক্রমকে আমলে না নিয়ে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তিনি।
বিআরটিএর চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কে প্রাণ ঝরছে। এ কারণে ২০ বছরের পুরনো বাস এবং ট্রাক উঠিয়ে দেয়ার বিকল্প নেই। ফিটনেসবিহীন যানবাহন রাস্তায় রেখে আমরা সড়ক নিরাপদ করতে পারব না। মালিক-শ্রমিক কমিটিসহ সবাইকে নিয়ে আমরা যুগপৎ আন্দোলনে নামছি। এটা একদিনে সম্ভব নয়, আমরা কাজটা অন্তত শুরু করছি।
বিআরটিএর এমন অবস্থানের বিরুদ্ধে পাল্টা হুমকি বাস মালিক সমিতির। দেশব্যাপী চলা বিআরটিএ- এর অভিযানের প্রথম দিনেই পরীবাগে পরিবহন মালিক সমিতির কার্যালয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন মালিকরা। ১৫ দিনের মধ্যে অভিযানের নামে হয়রানি বন্ধ না হলে ধর্মঘটে যাওয়ার কথা জানান তারা।
বিলম্বে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া নিয়েও বিআরটিএ-এর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ মালিক শ্রমিকের। যদিও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানান বিআরটি'র চেয়ারম্যান।
এদিকে, সড়কে চলাচলকারী ফিটনেসবিহীন গণপরিবহন সরিয়ে নিতে সরকার বিশেষ রেয়াতি সুদে অর্থ অনুদান বা ঋণ দেবে বলে জানিয়েছেন সেতু ও যোগাযোগ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
