বর্তমান সরকারের আমলে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, সরকারের ওপর ঢালাওভাবে ব্যর্থতার দায় চাপানো বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে বলা পল্টনের রাজনৈতিক বক্তৃতায় মানায়, কিন্তু জাতীয় সংসদে নয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্ন তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, অথচ ঐতিহ্যগতভাবে জেলাটি সংস্কৃতিবান্ধব হিসেবে পরিচিত। তিনি সেখানে সিনেমা হল বন্ধসহ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ তুলে ধরেন। এরপর তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে জানতে চান, গত ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করতে পেরেছেন কি না, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পর্যাপ্ত ভূমিকা রেখেছেন নাকি ব্যর্থ হয়েছেন?
হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে কিছুটা উষ্মা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাননীয় স্পিকার, এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা—তা বুঝতে পারলাম না। সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংসদ সদস্যের উদ্বেগের বিষয়টি নির্দিষ্ট নয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছয় মাসে কতোটা ফিরলো তা একটি প্রশ্ন, আবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনেমা হল বন্ধের প্রসঙ্গটি আরেকটি বিষয়।
সংসদ সদস্যের উত্থাপিত হত্যা ও আহতের পরিসংখ্যানের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, কতোজন নিহত বা আহত হয়েছে, সে তথ্যের পরিসংখ্যানগত উৎস আমাদের জানা নেই। সংসদ একটি দায়িত্বশীল জায়গা, এখানে নির্দিষ্ট ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা করা উচিত।
তিনি যোগ করেন, কোনো সুনির্দিষ্ট ঘটনা থাকলে ৩০০ বিধিতে নোটিশের মাধ্যমে সংসদে বিস্তারিত বক্তব্য রাখার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে যেকোনো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
একই সেশনে অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানান, জুলাই আন্দোলনের সময় লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বিগত সরকারের সময় পুলিশ বাহিনীতে হওয়া অনিয়ম ও অবৈধ নিয়োগগুলো চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে আরও ১৫ হাজার নতুন সদস্য নিয়োগের একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
এদিকে একই অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এক প্রশ্নের জবাবে সংসদকে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ‘মক্কা প্যাক্টে’ যোগ দেওয়ার সুযোগ নেই। এ ধরনের জোটে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ঐকমত্য ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।
