সেকশন

শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
 

মেয়র যখন ঠিকাদার, কাজ নেন বন্ধুর নাম ভাঙ্গিয়ে

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০২:৪৯ পিএম

যিনি মেয়র, তিনিই ঠিকাদার। নিজেই নিজেকে কাজ দেন, তাই প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া থাকলেও তার পৌরসভার কাজ হয় প্রাক্কলিত মূল্যের সমান বা বেশি দরে।

তবে, এই কাজগুলো তিনি করেন একটি বেসরকারি টেলিফোন কোম্পানিতে কর্মরত বন্ধুর নামে করা লাইসেন্স দিয়ে। বন্ধুর ব্যাংক হিসেবে টাকা ঢোকার সাথে সাথে সেই টাকা আবার উত্তোলন করে মেয়রের নামে থাকা ব্যাংক হিসেবে জমা দিয়ে দেন মেয়রের সহকারী। বছরের পর বছর ধরে এমন কাণ্ড হচ্ছে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা পৌরসভায়।

স্থানীয় সরকার বিভাগে গলাচিপা পৌরসভা দেশের একটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা। তাই এই পৌরসভায় সরকারের থোক বরাদ্দের পরিমাণ অন্যান্য পৌরসভার চেয়ে বেশি থাকে।

এই পৌরসভায় সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নিজস্ব রাজস্ব তহবিল থেকে যে কাজ হয়, তার প্রায় সবগুলোই প্রাক্কলিত মূল্যের সমান বা বেশি দরে হয়।

কেন এমন হয়? এমন প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানে নেমে জানা যায়, গেলো চার বছর ধরে এই পৌরসভায় বন্ধু বা নিকটাত্মীয়দের নামের লাইসেন্স দিয়ে মেয়র নিজেই ঠিকাদারি করছেন। আর তাই প্রকল্প প্রণয়ন থেকে শুরু করে অর্থ বরাদ্দ সব জায়গাতেই অনিয়মের ছড়াছড়ি।

গলাচিপা পৌরসভায় তালিকাভুক্ত ঠিকাদার এস আই এম রাসেল। যিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানি কর্মরত আছেন। তার ট্রেড লাইসেন্সের নামও এস আই এম রাসেল।

একাত্তরের পক্ষ থেকে এই নামে পৌরসভায় কতগুলো কাজ হয়েছে তা জানতে চাইলে প্রথমে দিতে গড়িমসি করেন পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলি অলক কুমার। 

এ বিষয়ে মেয়রের অনুমতি লাগবে জানান। পরে নির্বাহী প্রকৌশলিকে ফোন দিলে তিনি তথ্য দেবার জন্য নির্দেশ দেন।

image

গলাচিপা পৌরসভা

কিন্তু দীর্ঘদিন পৌরসভায় কাজ করা অলক সমাদ্দার একাত্তরের প্রতিনিধির কাছে একটি অসম্পূর্ণ তালিকা ধরিয়ে দেন। যাতে দেয়া যায় ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মোট আটটি কাজ করেছে এই ঠিকারদার।

কিন্তু প্রকৃত পক্ষে এই তালিকা আরো বেশি জানার পর, একাত্তরের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রকল্পের নাম উল্লেখ করে সেই সব প্রকল্পের কাজ কারা পেয়েছেন জানতে চাইলে তখন সেগুলোও এস এই এম রাসেলের নামের কাজ বলে জানানো হয়।

এই সবগুলো কাজই প্রাক্কলিত মূল্যের সমান বা তার চেয়ে বেশি। গলাচিপা পৌরসভার পাঁচজন ঠিকাদারের সাথে প্রতিবেদকের কথা হয়, তারা সবাই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যে কাজগুলো পৌরসভার রাজস্ব বা এডিপি থেকে হয় সেগুলো চার-পাঁচটি ঠিকাদারের মধ্যেই ঘোরা ফেরা করে। মূলত এই কাজগুলো মেয়র নিজেই করেন। যাদের নামে লাইসেন্স তাদের অল্প কিছু টাকা দিয়ে সন্তুষ্ট রাখেন।

এই অভিযোগের সত্যতা মেলে এস আই এম রাসেলের সাথে মেয়রের ব্যাংকিং লেনদেন অনুসন্ধানে। রাসেলের নামে উত্তরা ব্যাংক গলাচিপা শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসেব আছে।

এই হিসেবে পৌরসভার বিলের চেক জমা হয়। চেক পাশ হবার পরপরই টাকাগুলো উত্তোলন করে মেয়রের নামে থাকা ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গলাচিপা শাখায় জমা দেয়া হয়। রাসেল ও মেয়র তুহিনের ব্যাংক হিসেবের তথ্য পাশাপাশি করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়।

image

ফাইল ছবি

এস আই এম রাসেলের ব্যাংক হিসেবে গত এক বছরে এক কোটি ৩ লাখ টাকার ওপরে লেনদেন হয়েছে। সেই লেনদেন বিশ্লেষণ করে দেখা যায় এ বছরের পাঁচ এপ্রিল রাসেলের উত্তরা ব্যাংকের হিসাবে ২৫ লাখ টাকা জমা হয়।

ছয় এপ্রিল সেই টাকা শাহিন নামে একজন উত্তোলন করেন। আবার ওইদিনই শাহিন মেয়ের ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ২৫ লাখ টাকা জমা দেন। এমন ১১টি লেনদেনের হিসাব পাওয়া যায় দুইটি অ্যাকাউন্টে। দুইটি ব্যাংক স্টেটমেন্টে টাকা উত্তোলন ও জমাকারির নাম লেখা আছে শাহিন। এই শাহিন হলো পৌরসভায় মেয়রের অফিস সহকারী।

তিনি একাত্তরকে জানান, এম আই এম রাসেলের সই করা চেক মেয়রের কাছেই থাকে। মেয়রের কাছ থেকেই চেক নিয়ে রাসেলের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে তা আবার মেয়রের অ্যাকাউন্টে জমা দিয়ে দেন।

শাহিন আরো জানান, এস আই এম রাসেল ও মেয়র আহসানুল হক তুহিন বাল্যবন্ধু। রাসেলের লাইসেন্স হলেও কাজ তদারকি করা থেকে শুরু করে ব্যাংকিং লেনদেন সবই মেয়র তুহিনের নির্দেশে তিনি করেন।

আরও পড়ুন: টিসিবির নিত্যপণ্যের ট্রাকে বাড়ছে ক্রেতার ভিড়

এ বিষয়ে মেয়র আহসানুল হক তুহিনকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি একাত্তরকে বলেন, ‘রাসেলের সাথে আমার আগে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিলো, আমরা রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা করতাম। সে আমার খুবই কাছের বন্ধু, রাসেলে যেহেতু ঢাকা থাকে তাই তার সই করা চেক তার বাসা থেকে তার ভাই বা বাবা আমার কাছে দিয়ে যায় এবং আর আমি সিমেন্টের দোকান বা অন্য কোথাও টাকা দেয়ার দরকার হলে আমার পিওনের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে দিয়ে দেই। তার ঠিকাদারি কাজের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।’

রাসেলের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে মেয়েরের অ্যাকাউন্টে রাখা হয় কিনা, এমন প্রশ্নে মেয়র তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে টাকা রাখার বিষয়টি স্বীকার করেন। 

এস আই এম রাসেলসহ পৌরসভার প্রতিটি কাজ কিভাবে প্রাক্কলিত মূল্যের সমান বা বেশি হয় এ বিষয়ে মেয়র সুস্পষ্ট কোন জবাব দিতে পারেননি।

বেসরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানিতে কাজ করা এস আই এম রাসেল প্রথমে বলেন, এই কাজগুলো তিনিই করেন। তার দাবি, তিনি এখন পর্যন্ত ৩০ লাখ টাকার মতো কাজ করেছেন। কিন্তু গলাচিপা পৌরসভার দেয়া তথ্য অনুযায়ি, এই লাইসেন্সে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আরো কাজ চলমান আছে।

image

গলাচিপা পৌরসভা মেয়রের বন্ধু এস আই এম রাসেল

তাহলে বাকি টাকার কাজ কে করল, এমন প্রশ্নে রাসেলের উত্তর ‘আমার কিছু ভুল হয়েছে আপনারা সংশোধন করে দিলে আমি সংশোধন হবো।’ যদিও একাধিক সূত্রের তথ্য, এই ঠিকাদারের নামে কাজের পরিমাণ কোটি টাকারও বেশি।

স্থানীয় ঠিকাদাররা জানিয়েছেন, মেয়র আহসানুল হক তুহিন নিকট আত্মীয় এবং কাছের কয়েকজনের নামে লাইসেন্স করিয়ে নিজেই কাজ করেন।

তাদের দাবি, পৌরসভার দেয়াল নির্মাণের জন্য ১১ লাখ ৮০ হাজার টাকার কাজ হয়েছে মেয়রের আপন মামার নামে কিন্তু কাজ করেছেন মেয়র নিজেই। 

ঠিকাদাররা জানান, প্রতিযোগিতামূলক বাজারে দেশের কোথাও প্রাক্কলিত মূল্যে কেউ কাজ পায় না। কিন্তু, গলাচিপা পৌরসভায় প্রায় সব কাজই প্রাক্কলিত মূল্যে বা তার চেয়ে বেশি মূল্যে। কারণ মেয়র নিজেই সব কাজ করেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সাবেক সচিব আবু আলম শহিদ খান বলেন, ‘প্রাক্কলিত দরে বারবার একজনের কাজ পাওয়া বা একটি পৌরসভার সব কাজই প্রাক্কলিত দরে হওয়া যোগসাজশ ছাড়া সম্ভব না’।


নোট: প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন গলাচিপা উপজেলার সংবাদদাতা সাকিব হাসান। প্রতিবেদনে উল্লেখিত সব কথোপকথনের রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রমাণ একাত্তরের কাছে আছে।



একাত্তর/আরএ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের দিঘিতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
আনার হত্যার কিলিং মিশনে নেতৃত্ব দেয়া আমানউল্লাহ আমানের নাম মূলত শিমুল ভূঁইয়া। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, অতীতের অপরাধ মুছতে কিছুদিন আগে সে তার পাসপোর্ট বদল করেছে।
কক্সবাজারের উখিয়ায় বালুখালী ১৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন লেগেছে। ইতিমধ্যে ওই আগুন ছড়িয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তবে এর সূত্রপাত কীভাবে সেটি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নারায়ণগঞ্জে স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার সকালে জেলার সোনারগাঁও উপজেলার ভট্টপুর এলাকায় একটি পুকুর থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বাবা হত্যার বিচার চেয়েছেন নিহত এমপি আনোয়ারুল আজিম আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর আদালত। সেই সাথে তার ৩৩টি ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সব লেনদেন বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 
ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডে শুরু থেকে এক রহস্যময়ী নারীর প্রকাশ্যে আসে। বলা হয় শিলাস্তি রহমান নামে এই নারীই এমপি আনারকে কলকাতায় নিয়ে আসেন।
শ্বাসরোধ করে খুন করে চপার দিয়ে দেহ টুকরো। শরীর থেকে ছাড়ানো হয়, চামড়া। আলাদা করা হয় হাড় মাংস। পরে দেহাংশ ফেলা হয় পোলেরহাট আর ভাঙরে।
লোডিং...
Nagad Ads
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর


© ২০২৪ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত