শুল্কমুক্ত গাড়ি এনে তা বিক্রি করে আত্মসাতের ঘটনায় দুদকের দায়ের করা মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এর প্রতিক্রিয়ায় হারুনুর রশীদের নির্বাচনী এলাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে৷
বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর ও সদর উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে আনন্দ মিছিল করে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বিকেলে জেলা শহরের ওয়ালটন মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় হতে একটি আনন্দ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। এর আগে সকালে রায় বহালের খবরের পর থেকেই মিষ্টি বিতরণ করে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ বলেন, ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সারাদেশে কারচুপির চেষ্টা করেছিল। দেশের কোথাও সফল না হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আওয়ামী লীগেরই কিছু নেতার চক্রান্ত ও একজন পুলিশ কর্মকর্তার সহযোগিতায় বিএনপি জয়লাভ করতে সক্ষম হয়। সেই ভোটে কারচুপি করায় নৌকার পরাজয় হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, এই রায়ে প্রমাণিত বিএনপি দলীয়ভাবেই দুর্নীতিপরায়ণ।
দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, এমপি হারুন যে মামলায় ১৬ মাস হাজতবাস করেছেন, সেই সময়কালই সাজা হিসেবে গণ্য হবে। তাকে নতুন করে আর জেলে যেতে হবে না।
বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) বিচারপতি মো. সেলিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এছাড়া আদালত মামলার অপর দুই আসামি ব্যবসায়ী এনায়েতুর রহমান ও গাড়ি ব্যবসায়ী ইশতিয়াক সাদেকের সাজাও বহাল রেখেছেন আদালত। তাদেরও নতুন করে আর জেলে যেতে হবে না।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর হারুনুর রশীদ এমপিকে পাঁচ বছরের দণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠান আদালত। পাশাপাশি তাকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ রায় দেন। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন হারুন।
শুল্কমুক্ত গাড়ি এনে তা বিক্রি করে আত্মসাতের ঘটনায় দুদকের দায়ের করা মামলায় তাকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: সংক্রমণের ক্ষমতা বেশি হলেও ডেলটার চেয়ে দুর্বল ওমিক্রন: ডব্লিউএইচও
সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় শুল্ক মুক্ত গাড়ি এনে তা বিক্রির ঘটনায় হারুনুর রশীদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা হয় ২০০৭ সালের ১৭ মার্চ। মামলার বাদি পুলিশের উপ-পরিদর্শক ইউনুস আলী।
মামলাটি তদন্ত করে হারুনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ওই বছরের ১৮ জুলাই আদালতে চার্জশিট দেন দুদকের সহকারী পরিচালক মোনায়েম হোসেন। অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে হারুনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২০ আগস্ট বিচার শুরু করেন আদালত।
একাত্তর/এসি
