রাতে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে স্ত্রী রেশমী ও ১৩ মাস বয়সী সন্তান সালমান সাফায়াতকে গলা কেটে হত্যা করে ফখরুল। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
পুলিশের কাছে ফখরুল শিকার করেছে, পরকীয়া সন্দেহে তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যা করেছেন। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
রোববার (১৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের ঘোড়াদিয়া গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকায় এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করার পর পালানোর চেষ্টা করছিলেন ফখরুল ইসলাম। এ সময় এলাকাবাসী তাকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।
নিহতের স্বজনরা জানান, দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে নরসিংদী শহরের দত্তপাড়ার গ্রামের রেশমি আক্তারের সঙ্গে চিনিশপুরের ঘোড়াদিয়ার ফখরুল ইসলামের বিয়ে হয়।
কিন্তু বিয়ের পর রেশমি জানতে পারে তার স্বামী মাদকাসক্ত। একদিকে মাদকাসক্ত ও অন্যদিকে বেকার হওয়ায় প্রায় সময়ই শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামীর সঙ্গে রেশমির ঝগড়া হতো।
এছাড়া রেশমিকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। কয়েক মাস আগে চিকিৎসার জন্য ফখরুলকে একটি রিহ্যাবে সেন্টারে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
কয়েকদিন আগে মাদক গ্রহণ না করা শর্তে রিহ্যাব থেকে নিয়ে আসে পরিবারের লোকজন। কিন্তু তারপরও মাদক নেওয়া বন্ধ না হওয়ায় রেশমির সঙ্গে ঝগড়া হতো।
ফখরুলের দাবি তার স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এনিয়ে কলহের একপর্যায়ে স্ত্রী ও সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করে ফখরুল। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
ফখরুলের বাবা সাইফুল্লাহও ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে জানান, তার ছেলেই নিজের স্ত্রী ও সন্তানকে খুন করেছে। ফখরুলের বড় ভাই তাকে ধরে স্থানীয়দের খবর দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেখে ফখরুল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তার বড় ভাই ধাওয়া দিয়ে তাকে ধরে বাড়িতে নিয়ে আসে। পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে নিয়ে যায়’।
নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সওগাতুল আলম জানান, স্থানীয়রা জানিয়েছে ফখরুল মাদকাসক্ত ছিলেন। বেকার ও মাদকাসক্ত হওয়ায় সংসারে অশান্তি লেগে থাকতো।
একাত্তর/টিএ
