সিলেটে স্ত্রী ও পুত্র-কন্যাকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার সিলেটের সিনিয়র দায়রা জজ মশিউর রহমান চৌধুরী এ আদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত হিফজুর রহমান (৩৬) সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নকান্দি ফুলেরতল এলাকার বাসিন্দা। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ১০ হাজার করে মোট ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করে আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, আসামি হিফজুর রহমান নিজ বসতঘরে ২০২১ সালের ১৬ জুন ভোররাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার স্ত্রী আলেমা বেগম, পুত্র মিজান, কন্যা আনিসাকে কুপিয়ে হত্যা করেন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আলেমা বেগমের বাবা আইয়ুব আলী অজ্ঞাতনামা আসামি করে গোয়াইনঘাট থানায় মামলা করেন।
পরে পুলিশ হিফজুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হিফজুর নিজেই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন। এরপর আদালতেও হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামি বলেন, তিনি অসুস্থ ছিলেন। ঘটনার দিন তিনি স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে স্বপ্নে দেখতে পান স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে বড় বড় মাছ ও সাপ খেয়ে ফেলছে। এসময় ঘরে থাকা বঁটি নিয়ে অন্ধকারের মধ্যে তাদের বাঁচাতে এলোপাথাড়ি কুপিয়েছেন তিনি। পরে ঘরের বাতি জ্বালিয়ে দেখতে পান স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নিজাম উদ্দিন জানান, হিফজুর রহমান আদালতে ১৬৪ ধারায় যে জবানবন্দি দিয়েছেন, সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে আংশিক অসত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে বলে আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে। তিনি নিজেকে মানসিকভাবে অসুস্থও দাবি করেননি।
তিনি আরও জানান, আলোচিত এ হত্যা মামলায় ৩১ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় ঘোষণা করে।
মা ও মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে দুইজনের যাবজ্জীবন