নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণের চেষ্টা ও ভিডিও ধারন করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া মামলার রায় মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) ধার্য করা হয়েছে।
নোয়াখালী জজ কোর্টের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মামুনুর রশীদ লাভলু জানান, বেগমগঞ্জ মডেল থানায় দায়েরকৃত মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গত ১৫ ডিসেম্বর দেলোয়ার হোসেন দেলুসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
১৩ আসামীর মধ্যে ৯ জন জেলহাজতে থাকলেও বাকি চার আসামি পলাতক রয়েছে। আদালত বাদী, সাক্ষী ও আসামিদের বক্তব্য শুনে মঙ্গলবার আলোচিত এই ধর্ষণচেষ্টা মামলার রায়ের তারিখ ধার্য করেন।
এ ঘটনায় ২০২০ সালের ৪ অক্টোবর গৃহবধূ বাদী হয়ে নুর হোসেন বাদল, আবদুর রহিম, মোহাম্মদ আলী ওরফে আবুল কালাম, ইসরাফিল হোসেন ওরফে মিয়া, মাঈন উদ্দি সাজু, সামছুদ্দিন ওরফে সুমন, আবদুর রব ওরফে চৌধুরী মিয়া লম্বা চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান আরিফ এবং রহমত উল্যাহ এই নয় জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তী সময়ে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য ৭ অক্টোবর পুলিশ ব্যুারো অব ইনভেস্টিগেশ-নোয়াখালীতে হস্তান্তর করা হয়। পিবিআই ৬৯ দিন এবং ৪৮ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে ১৫ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
চার্শিজটভুক্ত আসামিরা হলেন দেলোয়ার হোসের দেলু, জামাল উদ্দিন ওরফে প্রবাসী জামাল, নুর হোসেন বাদল, আবদু রহিম, মোহাম্মদ আলী ওরফে আবুল কালাম, ইসরাফিল হোসেন ওরফে মিয়া, মাঈন উদ্দিন সাজু, সামছুদ্দিন প্রকাশ কনট্রাকটর সুমন, আবদুর রব ওরফে চৌধুরী মিয়া, মোস্তাফিজুর রহমান আরিফ, নুর হোসেন রাসেল, আনোয়ার হোসেন সোহাগ মেম্বার ও মিজানুর রহমান তারেক ও মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগ। যদিও পরে আদালত মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে সোহাগ মেম্বারকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।
আরও পড়ুন: ধর্ষণের পর আপত্তিকর ছবি ফাঁস, চাচা-ভাতিজা গ্রেপ্তার
এ মামলা মোট গ্রেপ্তার আসামি হলেন দেলোয়ার হোসের দেলু, নুর হোসেন রাসেল, আনোয়ার হোসেন সোহাগ, মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগ মেম্বার, নুর হোসেন বাদল, মোঃ রহিম, মোহাম্মদ আলী ওরফে আবুল কালাম, মাঈন উদ্দিন সাজু, সামছুদ্দিন প্রকাশ সুমন, ইসরাফিল মিয়া, রহমত উল্যাহ ও মাঈন উদ্দিন শাহেদ।
এদের মধ্যে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন নুর হোসেন বাদল, মো.রহিম, মাঈন উদ্দিন সাজু, মোহাম্মদ আলী ওরফে আবুল কালাম, ইসরাফিল হোসেন ওরফে মিয়া, মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে সোহাগ মেম্বার, নুর হোসেন রাসেল ও আনোয়ার হোসেন সোহাগ।
পলাতক আসামিরা হলেন আবদুর রব চৌধুরী প্রকাশ চৌধুরী মিয়াম মোস্তাফিজুর রহমান আরিফ, জামাল উদ্দিন প্রবাসী জামাল ও মিজানুর রহমান তারেক।
পিবিআইয়ের তদন্তে অব্যাহতি পাওয়া আসামিরা হলেন রহমত উল্যা ও মাঈন উদ্দিন শাহেদ।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২ সেপ্টম্বর রাত ৯টার দিকে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর ঘরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে মামলার আসামিরা। এসময় তাকে ও তার স্বামীকে মারধর করে এবং গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। একইসঙ্গে তারা গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারন করে এবং পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেয়।
এর আগে ওই গৃহবধুকে ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল ও একই বছরের ৫ অক্টোবর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক দুইবার ধর্ষন করে দেলোয়ার হোসেন দেলু ও তার সহযোগী মোহাম্মদ আলী ওরপে আবুল কালাম। সে মামলায় গত ৪ অক্টোবর দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।
একাত্তর/টিএ
