সুগন্ধা নদীতে আগুনে পুড়ে যাওয়া অভিযান-১০ লঞ্চটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিলো না বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। সেই সঙ্গে আগুন লাগার পর দ্রুত লঞ্চটিতে পাড়ে আনা গেলে প্রাণহানির সংখ্যা আরো কমানো যেতো বলেও মত দিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে তৃতীয় দিনের অভিযানে কোনো মরদেহ উদ্ধার হয়নি। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ৫১ জনের তালিকা করেছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। যদিও পুলিশ ৪১ জনের নাম সংগ্রহ করতে পেরেছে।
সুগন্ধা নদীর পাড় যেন ভারী হয়ে আছে স্বজনহারাদের আহাজারিতে। রোববারও (২৬ ডিসেম্বর) তৃতীয় দিনের মতো ফায়ার সার্ভিস এবং কোস্টগার্ডের সদস্যরা চালিয়েছেন উদ্ধার অভিযান।
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খলিলুর রহমান জানান, সুগন্ধা নদীতে দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে। নতুন করে কোনো মরদেহ উদ্ধার হয়নি।
আর, বরগুনা জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা আবু সাঈদ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ২৫ জনের তালিকা করা হয়েছে।
এদিকে, রোববার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুড়ে যাওয়া লঞ্চটি দেখতে আসেন ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ও মেইনটেইনেন্স বিভাগের পরিচালক লেফটেনেন্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান।
পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অভিযান-১০ লঞ্চে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি ছিলো না। যদি থাকতো তাহলে এতো হতাহত হতো না।
তিনি আরো বলেন, লঞ্চের চালক বা স্টাফরা দ্রুত লঞ্চটি তীরে ভিড়াতে পারলে বহুযাত্রী নেমে যাবার সুযোগ পেতো। কিন্তু সে কাজটিও লঞ্চের চালক ও স্টাফরা করেনি।
কর্নেল জিল্লুর জানান, নদীর পানি ব্যবহার করেই পাম্প মেশিনের মাধ্যমে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা যেতো, সেটিও করেনি লঞ্চের চালক ও কর্মীরা।
এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ৫১ জনের তালিকা করেছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। যদিও পুলিশ বলছে তারা ৪১ জনের নাম সংগ্রহ করতে পেরেছেন।
আর, স্বজনের খোজেঁ নদী পাড়ে যারা এসেছেন তারা বলছেন, দাফনের আগে প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখতে চান তারা।
স্মরণকালের ভয়াবহ এ লঞ্চ দুর্ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।
একাত্তর/এআর
