অধিকার কেউ দিয়ে যায় না, তা লড়ে নিতে হয়। আবারও তা প্রমাণ করলেন আসপিয়া ইসলাম। ভূমি জটিলতায় মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হলেও চাকরি না হবার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল সে পথ পার করলেন তিনি।
শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদের নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছেন বরিশালের হিজলার আলোচিত ‘ভূমিহীন’ কলেজছাত্রী আসপিয়া ইসলাম।
স্বপ্নের চাকরির নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ায় উৎফুল্ল আসপিয়া ও তার পরিবার। প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান তার মা। পাশাপাশি সব সন্তানের জন্য দোয়া চান তিনি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বরাদ্দ ঘর নির্মাণের প্রায় শেষের দিকে। এর মধ্য দিয়ে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার হিজলাতে মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে তার পরিবারের।
থানা সূত্রে জানা গেছে, জেলা পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্র আসপিয়ার হাতে শনিবার তুলে দেন হিজলা থানার উপ-পরিদর্শক মো. মিজান। নিয়োগপত্রে ২৮ ডিসেম্বর সকাল ১০টার মধ্যে তাকে সহ চূড়ান্ত নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সামগ্রী নিয়ে জেলা পুলিশ লাইনে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘লঞ্চটি দ্রুত তীরে নিলে অনেক প্রাণহানি এড়ানো যেতো’
সেখান থেকে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে আনুষ্ঠানিকতা শেষে নারী টিআরসিদের ছয় মাসের প্রশিক্ষণের জন্য রংপুরে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ সূত্র।
প্রসঙ্গত, সাতস্তরের পরীক্ষায় পঞ্চম হয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও বরিশালে স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় কলেজছাত্রী আসপিয়ার চাকরি হওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়।
তবু নিজের প্রাপ্য অধিকার আদায়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ছোটাছুটি করেন তিনি। তবুও কোনো কাজ না হলে পরে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহায়তায় তার সঙ্কটকে সকলের আলোচনার কেন্দ্রে আনতে সক্ষম হন।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আসপিয়াকে জমিসহ ঘর এবং যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়।
আসপিয়ার জন্য হিজলায় খাস জমিতে ২ কক্ষবিশিষ্ট একটি সেমিপাকা ঘর নির্মাণ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন, যা প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
একাত্তর/টিএ
