উত্তরের রাজধানী রাজশাহীতে কোন রাজতন্ত্র না থাকলেও পাওয়া গেছে এক রাজার খোঁজ। যিনি নিজেকে রাজা হিসাবে ঘোষণা দিয়েই ঘুরে বেড়াচ্ছেন সেখানকার দুর্গাপুরের গ্রামে গ্রামে।
৫০ বছর ধরে তিনি রাজার পোশাক আর সাজে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। তার নাম আবদুল কাদের। সকাল থেকে বিকেল গ্রামবাসীর দুয়ারে গিয়ে শোনেন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা।
কিন্তু বাস্তবে পেশায় তিনি নৈশপ্রহরী। তারপরও গ্রামবাসী তাকে রাজা হিসেবে চেনেন ও মানেন। তার কাছে নিজেদের সমস্যার কথা জানান অকপটে।
অদ্ভুত সৌখিন ব্যক্তি আবদুল কাদেরের বাড়ি রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলার চৌপুকুরিয়া গাঁয়ে। দিনের বেলায় তিনি থাকেন রাজার বেশে, আর রাতের বেলায় নৈশপ্রহরী।
প্রতিদিন সকালে রাজার পোশাকে, মাথায় বর্ণিল তাজ, হাতে তলোয়ার নিয়ে ঘোড়ায় চড়ে রাজার বেশে গ্রামীণ জনপধে ছুঁটে বেড়ান ৭০ বছর বয়সী এই বৃদ্ধ।
দুর্গাপুর উপজেলার সব বয়সের নারী পুরুষ তাদের রাজাকে চেনেন। ৫০ বছর আগে বাংলা ছবি আর যাত্রাপালা দেখে রাজা হবার ইচ্ছা হয় আব্দুল কাদেরের।
যেই ভাবা সেই কাজ। সেই তখন থেকে রাজার পোশাকে সেজে ঘুরতে থাকেন গ্রামে গ্রামে। এক পর্যায়ে যোগ হন উজির ও সেনাপতি, যারা দু’জনই বর্তমানে পরলোকগত।
দুর্গাপুরের মানুষ তাকে ‘রাজা’ হিসেবেই চেনেন ও জানেন। প্রহরীর চেয়ে তার বড় পরিচয় ‘রাজা’। স্বঘোষিত এ রাজার ঘরে স্ত্রী ছাড়াও দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
রাজা আব্দুল কাদেরের এমন পরিচিতিতে তার পরিবারের সদস্যরাও গর্বিত। রাজার মতো চলতে কাদেরকে দেন প্রয়োজনীয় সহায়তা ও উৎসাহ।
রাজার বেশে আব্দুল কাদেরকে দেখতে পেলে খুশি হয় সব বয়সের মানুষেরা। জানান তাদের সমস্যা-সম্ভাবনার কথা। মনোযোগ দিয়ে শোনেন রাজা, চেষ্টা করেন সমস্যা সমাধানের।
সারাদিন রাজার বেশে ঘুরে বেড়ালেও সন্ধ্যায় আব্দুল কাদের ফিরে আসেন বাড়িতে। গত ১৫ বছর ধরে নৈশপ্রহরীর পোশাক পরে বাঁশি বাজিয়ে ছোটেন গ্রামের এ মাথা থেকে ও মাথা।
তবে ‘রাজা’ আবদুল কাদের জানিয়েছেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত রাজার ভূমিকার দ্বারা মানুষকে আনন্দ দিয়ে যেতে চান তিনি। এজন্য সবার সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।
