ঘুন কুয়াশায় যান চলাচল ব্যাহত, ঠাণ্ডায় কাঁপছে উত্তরাঞ্চল

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২২, ০৮:৫১ পিএম

উত্তর ও পশ্চিমের বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রার পারদ নিচেই নামছে। ক্রমশই বাড়ছে ঠান্ডার দাপট। অনেক জনপদ মুড়ে গেছে কুয়াশার চাদরে। ফলে যানবাহন ও ট্রেন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।

নদীতে কুয়াশার তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় দিক হারাচ্ছে ফেরিসহ সব নৌযান। দক্ষিণের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঘন কুয়াশায় দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল।

আবহাওয়া দপ্তর বলছে, আগামী দু’একদিনের মধ্যে শৈত্যপ্রবাহ আরো বাড়বে। বুধবার দেশের সবচেয়ে কম তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

দিবাগত রাত সোয়া ১টা থেকে বুধবার সকাল সোয়া ১০টা পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে নদীর উভয় পাড়ে পারাপারের অপেক্ষায় আটকে পড়ে শত শত যানবাহন।

ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের তিন কিলোমিটার এলাকায় শত শত যানবাহন ও গোয়ালন্দ মোড়ে আরও এক কিলোমিটার এলাকায় পণ্যবাহী ট্রাকের জট তৈরি হয়।

কর্মকর্তারা জানান, কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় রাত ১টার দিকে পদ্মায় ফেরির মার্কিং বাতির আলো অস্পষ্ট হয়ে যায়। এজন্য দুর্ঘটনা এড়াতে সাময়িকভাবে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুটে ফেরি চলাচল ৯ ঘণ্টা বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়ে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের হাজার হাজার যাত্রী ও পরিবহন চালকরা।

দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় নদীর শীতল বাতাসের মধ্যে আটকে থাকায় সবচেয়ে বেশি কষ্টে থাকে শিশু ও মহিলারা। ভোগান্তিতে পড়তে হয় পরিবহন চালক ও সহকারীদেরও।

এদিকে, কুয়াশা কেটে যাওয়ার পর বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে লঞ্চ, ফেরিও স্পিডবোট চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ঘাটের কর্মকর্তারা জানান, বুধবার ভোর থেকে নৌরুটে কুয়াশার পরিমাণ বেড়ে গেলে দুর্ঘটনা এড়াতে কর্তৃপক্ষ নৌযান চলাচল বন্ধ রাখে। 

অন্যদিকে পঞ্চগড়, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, পাবনা, নওগাঁ ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। এই শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা দেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

বুধবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ায় ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি। আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফে ২৮দশমিক ৮ ডিগ্রি।

পঞ্চগড়ে গত কয়েকদিন ধরেই তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। বিরাজ করছে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সেখানের জনজীবন।

তাপমাত্রার অবনতি আর হাড়কাঁপানো শীতের সঙ্গে ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জনজীবন অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে।

রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশাচ্ছন্ন থাকছে পুরো জেলা। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। এতে দুর্ভোগে রয়েছে খেটে খাওয়া মানুষ।

পৌষের শীতে কাঁপছে চুয়াডাঙ্গাও। ভোর থেকে বৃষ্টির মতো ঝরছে ঘন কুয়াশা। সে সাথে হিমেল হাওয়ায় বাড়িয়েছে শীতের তীব্রতা। অনুভূত হচ্ছে হাড়কাঁপানো শীত।

বুধবার সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতের তীব্রতা ও হিমেল হাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।

সকালে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করেছে খেটে খাওয়া ছিন্নমূল মানুষ। শীতে ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ। তীব্র ঠান্ডায় দেখা দিচ্ছে শীতজনিত নানা রোগ। হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।

নীলফামারীতে ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসায় জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগের শিকার নিম্ন আয়ের ও হতদরিদ্র মানুষেরা।

যান চলাচল ও দৈনন্দিন কাজে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। সব মিলিয়ে জবুথবু হয়ে পড়েছে নীলফামারীসহ পুরো উত্তর জনপদ।

দুপুরের দিকে সূর্যের মুখ দেখা গেলেও দুই এক ঘণ্টার মধ্যেই তা উধাও হয়ে যায়। ফলে তাপমাত্রা ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছে।

বুধবার জেলার শীত পরিস্থিতি আরও প্রকট হয়েছে। কুয়াশা ও বাতাসের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গড় তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১০ ডিগ্রিতে। ফলে কুঁকড়ে পড়েছে পরিবেশ ও জীবনযাপন।

কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি যে মাত্র ২ গজ দূরেও কিছু দেখা যাচ্ছে না। দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় রেলপথ ও সড়কে অল্পসংখ্যক যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীর গতিতে চলাচল করছে।

জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লোকজন বাইরে বের না হওয়ায় রাস্তাঘাট, হাটবাজার,স্টেশন বাস টার্মিনালসহ জনসমাগমের স্থানগুলোতে লোকজনের উপস্থিতিও কম।

সরকারি বেসরকারি অফিসে কর্মজীবীরা এলেও কাজেকর্মে চলছে স্থবিরতা। জীবিকার তাগিদে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ বের হলেও কাজ না পেয়ে অনেকে চরম দুর্ভোগে পড়ছে।

কনকনে শীতে কাঁপছে পাবনাবাসীও। পদ্মা-যমুনা বেষ্টিত পাবনা জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কনকনে হাঁড়কাঁপানো বাতাস আর কুয়াশায় জেঁকে বসেছে শীত।

পৌষের শেষভাগে শীতের তীব্রতা ও হিমেল হাওয়ার সঙ্গে ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ।

সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন জীবন-জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের হওয়া শ্রমজীবী মানুষ। কনকনে ঠান্ডয় শিশু ও বৃদ্ধরা কাবু হয়ে পড়েছেন।

পাবনায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ সপ্তাহ জুড়েই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। জেলায় তাপমাত্রা আরো কমতে পারে। এ বছর পাবনায় শীত মৌসুমে দাপট গেলবারের চাইতে অনেক বেশি।

উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে শীতের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ‌্যা। শয্যা সংকটে ওয়ার্ডের মেঝেতে বিছানা করে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা।

এদিকে, জেলায় শীতের তীব্রতা বেড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্র।



একাত্তর/এনএ

প্রায় পৌনে সাত ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার যমুনা সেতু পশ্চিমপাড় সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে বাড়ছে যানবাহনের চাপ। তবে এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও নেই যানজট বা ধীরগতি এতে ভোগান্তি ছাড়াই ঘরে ফিরছে মানুষ।
সিলেটে জেঁকে বসেছে শীত। দিনভর ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকে চারপাশ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সারাদেশে টানা চারদিন কুয়াশার দাপট চলার পর বুধবার পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। কুয়াশা কিছুটা কমলেও বেড়েছে শীতের তীব্রতা।
সৌদি আরবে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি নুরুল হকের পরিবার সরকারের কূটনৈতিক সহায়তায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ক্ষতিপূরণের অর্থ বুঝে পেয়েছে। প্রাপ্ত এই সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানাতে নিহতের স্বজনেরা আজ...
বরগুনার বেতাগীতে কিশোর গ্যাং, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, অবৈধ দখলবাজি এবং ছড়িয়ে পড়া অনলাইন জুয়া চিরতরে নির্মূল করতে বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দুই মাসের (৬০ দিন) সময়সীমা বেঁধে...
কেউ যদি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, তবে সে বিষয়ে আইন ও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট, এখানে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন...
দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার মতো স্পর্শকাতর খাতগুলোতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম অকার্যকারিতা ও ব্যর্থতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের তীব্র সমালোচনা...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর