রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের জামাই পাগলের মাজার হতে বাগমারা হাট সড়কে চলমান উন্নয়ন কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে নিয়ম মেনে কাজ করা হচ্ছে না, সঠিকভাবে বিটুমিন প্রদান ও সড়কের দুই পাশে মাটি ভরাট করার কথা থাকলেও তাও হচ্ছেনা।
রোববার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় অভিযোগের ভিত্তিতে কাজ বন্ধ করে দেয় এলাকাবাসী। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন গত বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) অবসরে যাওয়া এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলি বিমল কুমার দাস। এরপর কিছুক্ষণ বাধেই তিনি সটকে পড়েন।
পরে দুই ঘণ্টা চলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও স্থানীয়দের হট্টগোল। এক পর্যায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সদর উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী গোলাম রব্বানী সাথে কাজের মান ভালো করার অঙ্গীকারে বেলা ১২টায় শুরু হয় সড়কের ঢালাই এর কাজ।
জানা গেছে, রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের জামাই পাগলের মাজার হতে বাগমারা হাট পর্যন্ত ৭ হাজার ৬ শ’ ৪৫ মিটার সড়কে ৬ কোটি ৮৩ লাখ ৮৮ হাজার, ৮১১ টাকা ৭৩ পয়সা ব্যয়ে কাজটি পায় নাটোর জেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর হাবিবুল আলম। যার কার্যাদেশ প্রদান করা হয় গত ২০১৯ সালের ৬ জুন। কাজটি সমাপ্ত করার কথা ছিলো ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর। এর অর্থায়ন করেছে এডিবি।
রোববার সড়ক অবরোধ করে কাজ বন্ধ করা এলাকাবাসীদের মধ্যে একজন আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা গত তিন বছর যাবত কষ্ট করে আসছি। সড়কে ধুলোবালিতে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। আমাদের দাবি সড়কে সঠিক নিয়মে বিটুমিন দেওয়া হোক। সড়কের পাশে কোন মাটি দেওয়া হয়নি তা যেন দেওয়া হয়, তাছাড়া বিটুমিন ধরে রাখার জন্য যে ইজিং (ইটের বাধ) থাকে তাও দেওয়া হয়নি। যে কারণে আমরা একত্র হয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলাম।
রিকশাচালক ও এলাকাবাসী খায়রুল হাসান বলেন, এই সড়কে চলতে গিয়ে আমার রিকশার জিনিসগুলো একের পর এক নষ্ট হচ্ছে। বলে লাভ হয়নি। রাস্তার কাজের মান খুবই খারাপ। তিন মাসের বেশি টিকবে না। যে কারণে আমরা যৌক্তিক আন্দোলন করেছি।
মোটরসাইকেল চালক ও মাটিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, ‘ভাইরে কার কাছে বলবো দুঃখের কথা! এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তারাই যেখানে অনিয়মের সাথে জড়িত। তারা কাজের দেখভাল ঠিক নিয়মে করেন না। এভাবে কাজ করলে বড় জোর ছয় মাস যেতে পারে। আবার আমাদের ভোগান্তি বাড়বে। সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্চা যাবে।’
সড়কে স্থানীয়দের কাজ বন্ধের খবরে ছুটে আসেন আলীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও রাজবাড়ী সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত হাসান ও জেলা পরিষদ সদস্য নাজমুল হাসান মিন্টু।
এ সময় তারাসহ স্থানীয় বাসিন্দারা এলজিইডির কর্মকর্তাদের কাছে সড়কের দুই পাশে অবশ্যই মাটি দেওয়ার দাবি ও সঠিক নিয়মে কাজ করার অনুরোধ করলে কর্মকর্তারা এখন থেকে সঠিক তদারকি ও ভালো কাজের আশ্বাস দেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মৃদ আলম একাত্তরকে বলেন, স্থানীয়দের কাজের মান সম্পর্কে ধারনা নেই, যে কারণে তারা অভিযোগ তুলেছেন। এই কাজে কোন অনিয়ম হচ্ছে না। আমরা নিয়ম মেনে কাজ করছি।
খোঁজ নিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার অবসরে যাওয়া এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বিমল কুমার দাসকে পাওয়া যায়। তার কাছে কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানে কিছুই হয়নি।’
আরও পড়ুন: ফেব্রুয়ারিতেই কক্সবাজারে ২৪ ঘণ্টা ফ্লাইট ওঠানামা
রাজবাড়ী সদর উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী গোলাম রব্বানী দাবি করেন কাজের মান ভালো। বৃষ্টির দোহাই দিয়ে তিনি বলেন, ‘যে সকল স্থানে মাটি দেওয়া হয়নি সেখানে মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়া হবে।’
নির্দিষ্ট সময়ে কাজ সমাপ্ত হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তারা নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি। যে কারণে নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে কাজের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছে, কার্যালয়টি চলতি মাসের ২৮ তারিখ পর্যন্ত কাজের মেয়াদ বাড়িয়েছে।’
একাত্তর/আরএ
