পঞ্চগড়ে জেলা প্রশাসক ও বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি মোবাইল ফোন নম্বর ক্লোন করে চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন জেলা প্রশাসক।
মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের ক্লোন করা ফোন নম্বর থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে এই চাঁদা দাবি করা হয়েছে।
বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম এ খবর জানান।
এবিষয়ে জেলার বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন জানান, মঙ্গলবার বিকেলে বোদা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার মুঠোফোন থেকে আমার ফোনে একটি কল আসে।
এসময় বলা হয়, আপনার ইউনিয়নের দুটি উন্নয়ন কাজের বিষয়ে জেলা প্রশাসক স্যার একটু পরে আপনাকে ফোন দিবেন।
কিছুক্ষণ পরেই জেলা প্রশাসকের ফোন নম্বর থেকে আমার ফোনে কল আসে। এসময় অপর প্রান্ত থেকে বলেন, আমি পঞ্চগড়ের ডিসি বলছি, আপনার এলাকায় দুটি উন্নয়ন কাজের বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে বসতে হবে। এতে কিছু টাকা-পয়সা খরচ হবে। আপনি কোথায় বসতে চান? আমি বলেছি, আপনার অফিসেই বসবো।
পরে তাদের কথা শোনার পর মনে হয় এই কণ্ঠ ইউনএনও এবং ডিসির নয়। পরে আমি সরাসরি ডিসিকে ফোন দিলে এ বিষয়ে আমাকে ফোন করেননি বলে জানান।
এদিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এসএ শাখার নাজির আজহার আলী জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আমার কাছে ডিসি স্যারের ফোন আসে। আমাকে বলা হয়, আপনাকে একটি নম্বর দিচ্ছি, এই নম্বরে দশ হাজার টাকা নগদ একাউন্টে পাঠান।
এসময় বলি, স্যার আমি তো এসএ শাখার নাজির। আপনি মনে হয় নেজারত শাখার নাজিরকে ফোন দিয়েছেন। তখন অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ও নাই তো আপনি টাকাটা পাঠিয়ে অফিসে এসে টাকা নিয়ে যান। পরে টাকা পাঠিয়ে আমি অফিসে গিয়ে দেখি এসব বিষয় নিয়ে অফিসের সবার মধ্যে আলোচনা চলছে। টাকা পাঠানোর পর আর ওই নম্বরে যোগাযোগ করতে পারছিনা।
বোদা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সোলেমান আলী জানান, আমার অফিসের মোবাইল নম্বর ক্লোন করে এক ইউপি চেয়ারম্যানকে উন্নয়ন কাজের কথা বলে টাকা চাওয়া হয়েছে। আমি জানতাম না, পরে ওই চেয়ারম্যানের কাছে বিষয়টি জেনেছি।
জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম বলেন, সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, আমার ফোন নম্বর দিয়ে আমাকেই ফোন দেওয়া হয়েছে। ওই নম্বরের সামনে +৮৮৬ লেখা উঠেছে। আমাকে দেওয়া কলটি আমার একজন কর্মকর্তা রিসিভ করে ছিলেন।
আরও পড়ুন: দলীয় প্রতীক ছাড়াই কাদেরের উপজেলায় ইউপি নির্বাচন
এসময় বলা হয়, আমি আপনার ফোন নম্বরটি ক্লোন করেছি। কেন করছেন জানতে চাইলে বলা হয়, এটা অনেক কষ্টের কথা, আপনি বুঝবেন না। পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশকে জানানো হয়েছে।
পঞ্চগড় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী জানান , বিষয়টি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আমরাও জেনেছি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
একাত্তর/এসি
