টানা বৃষ্টির পর আবারো মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে উত্তরের বেশ কিছু জেলার ওপর দিয়ে। সূর্যের দেখা মিললেও নেই উত্তাপ। দুপুর পর্যন্ত কুয়াশায় ঢেকে থাকছে জনপদ।
এছাড়া শীতের তীব্রতায় কাবু ছিন্নমূল ও কম আয়ের মানুষ। একই সাথে হাসপাতালগুলোতেও বেড়েছে শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।
সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়াতে ৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে নীলফামারী, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, পাবনা, মৌলভীবাজার জেলা ও সীতাকুণ্ড উপজেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এটি অব্যাহত থাকতে পারে এবং পাশের জেলায় বিস্তৃত হতে পারে।
আরও পড়ুন: ১৯ বছর পর ভোট দিলেন রাঙ্গাবালীর মানুষরা
গেলো দুই দিন ধরেই পঞ্চগড়ে বিকেলের পর থেকে শুরু হয় কুয়াশা। রাতভর বৃষ্টির মতো ঝরে কুয়াশা। দুপুরের দিকে কিছু সময় সূর্যের দেখা মিললেও উত্তাপ নেই।
সূর্য তাপ ছড়ানোর আগেই আবারও ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় আকাশ। সেই সঙ্গে কনকনে হিমেল বাতাস। সব মিলিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে স্থবির হয়ে পড়েছে সেখানের জীবনযাত্রা।
দুর্ঘটনা এড়াতে দিনের বেলাতেও হেড লাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাচ্ছে না মানুষ। কাজে গেলেও বিকেলের আগেই ফিরছেন ঘরে।
প্রায় একই অবস্থা উত্তরের আরেক শীতপ্রবণ জনপদ কুড়িগ্রাম জেলাতেও। সেখানেও পারদ নেমেছে ৮.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াসে। সেই সঙ্গে আছে কুয়াশা আর হিম ধরানো বাতাস।
বরফকণার মতো শিশিরের সঙ্গে সেই বাতাস বাড়িয়েছে শীতের তীব্রতা। কাজ করতে না পারায় নিম্ন আয়ের মানুষের আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। দেখা দিয়েছে রোগব্যাধির প্রকোপ।
নীলফামারীতেও কমেনি শীতের দাপট। দু’দিন বৃষ্টির পর আবারো বইছে মৃদ্যু শৈত্য প্রবাহ। আবহাওয়া কর্মকর্তারা বলছেন, এমন আবহাওয়া থাকবে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত।
এদিকে, বাগেরহাটে মাঘ শেষে হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে অসহায় দরিদ্র আর ছিন্নমূল মানুষ। সেই সাথে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে ছুটছেন মায়েরা।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তিন দিনে ৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা কমে সোমবার ৮.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আবহাওয়া কর্মকর্তারা বলছেন, শৈত্যপ্রবাহের সাথে ঘন কুয়াশা থাকবে আরও তিন-চার দিন।
একাত্তর/এআর
