নরসিংদী রেলস্টেশন এলাকার ছিন্নমূল শিশুদের জন্যে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে পথকলি স্কুল। ২০১৩ সাল থেকে খোলা আকাশের নিচে পরিচালিত হয়ে আসছে স্কুলটি।
সপ্তাহের তিনদিন পথকলি স্কুলে লেখাপড়ার পাশাপাশি শিশুদের খাবারও দেয়া হয়। দেয়া হয় মানুষ হবার শিক্ষা। বলা হয় মটিভেশনাল কথাবার্তা।
এই স্কুলটিতে এখন নিজের নাম লিখতে পারে ৬০ জন শিশু। তারা জানে দুই এর সাথে তিন যোগ করলে পাঁচ হয়। এছাড়াও যানে বাংলা, ইংরেজি ও আরবিও।
সুবিধা বঞ্চিত পথ শিশুর জন্য ভ্রাম্যমাণ স্কুল ‘পথকলি’ যাত্রা শুরু করে নরসিংদী রায়পুরার ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন রাসেল। চাকরি করছেন মার্কেন্টাইল ব্যাংকের নরসিংদী শাখায়।
২০১৩ সালে রেলওয়ে স্টেশনের পাশের পৌর পার্কে চালু হয় পথকলি স্কুলটি। এখন শুক্র, শনি ও সোমবার বিকাল তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত চলে ক্লাস।
খোলা আকাশের নিচে একটি সাদা বোর্ড ও মার্কার পেনের সাহায্যে তারা শিখছে বাংলা, ইংরেজি, অংক ও আরবি।
স্কুলের শিশুরা এখন পড়তে জানে, ছড়া কাটতে জানে। রিডিং জানে। পড়াশোনা শেষে রাসেল তাদের খাবারও দেন। পথকলির প্রথম ব্যাচের অনেক ছাত্র স্কুলে ক্লাস ফোর, ফাইভে পড়ছে।
প্রাক প্রাথমিক এই শিক্ষা পেয়ে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছে ৬ থেকে ১১ বছর বয়সি এসব ছিন্নমূল শিশু।
স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা রাসেল জানান, ২০১৩ সালে স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলো মাত্র ১০ জন। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২। পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের জন্য রয়েছে পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থাও।
তিনি বলেন, দু’দিনই পড়াশোনা শেষে মুরগি-পোলাও খেতে দিই। খাবার দিলে তাদের আগ্রহ থাকে বেশ। আমি নিজেই খরচ বহন করি। কেউ দিতে চাইলে বলি, খাবার কিনে খাইয়ে যান।
দিনের অন্য বস্তিবাসী এসব শিশুরা স্টেশনের আশেপাশে কাগজ প্লাস্টিকসহ নানা জিনিসপত্র খুটে জমায়। পরিমাণ বেশি হলে বিক্রি করে ভাঙাড়ির দোকানে।
আরও পড়ুন: নির্জন রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ১০
তাই এসব পথশিশুদের জন্য কাজের ক্ষেত্রও তৈরি করছেন রাসেল। যেমন, খালপারের বেকার নিরব। রাসেল তাকে একটা পাত্র আর ২০০ টাকার চানাচুর কিনে দিয়েছিলেন।
নীরব সেগুলো ফেরি করে বেড়াত। এখন নিজেই চানাচুর বানাতে শিখে গেছে। এমন গল্প আছে হৃদয় দাসেরও। হৃদয় এখন বাদাম বিক্রি করে। ভালোই চলছে। পথ শিশুদের জন্য স্থায়ী একটি স্কুল ও লাইব্রেরি করার স্বপ্ন দেখেন রাসেল।
একাত্তর/আরএ
