ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলাম সংগঠনটির তাণ্ডবের এক বছর পেরিয়ে গেলেও মুছে যায়নি ক্ষতচিহ্ন। এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি অনেক প্রতিষ্ঠান।
এক বছর আগের সেই নারকীয় তাণ্ডবের ঘটনায় ৫৫টি মামলায় ৭৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ৬৩৮ জনই জামিনে মুক্ত আছে। এখনও শেষ হয়নি মামলাগুলোর তদন্ত।
এলাকাবাসী বলছেন, ধর্মের নামে আর কেউ যাতে ওমন ধরনের সংঘাত না ঘটাতে পারে তার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
হামলার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীরা এখনো ধরা না পড়ায় তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ, সাংবাদিক, এমনকি ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরাও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন।
গত বছরের ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চ জেলা সদর, আশুগঞ্জ ও সরাইল থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে অফিসের আসবাবপত্র ও গাড়ি ভাঙচুর ও আগুনের মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেন।
রেলস্টেশন একেবারে অচল করে দেয়া হয়। উল্টে ফেলা হয় রেললাইন। অচল করে দেয়া হয় সিগনালিং ব্যবস্থা। পৌরসভার ভবন ছাড়া কোন কিছুই বাঁচেনি।
পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জেলা পরিষদ কার্যালয়, ডাকবাংলো, সার্কিট হাউজ, প্রেস ক্লাব, জেলা আনসার অফিস, সদর উপজেলা ভূমি অফিসসহ জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকে কেন্দ্রে করে তিন দিনের তান্ডব ও সহিংসতার বলি হয় ১৫ প্রাণ। আহত হন শতাধিক মানুষ। সেই নারকীয় সহিংসতার এক বছর পার হলেও এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি অনেক প্রতিষ্ঠান।
পৌরসভার কর্মকাণ্ড চলছে অস্থায়ী কার্যালয়ে। সংস্কার কাজ চলছে প্রেস ক্লাবের। সাত মাস পর চালু হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন।
সেদিন বাসা, অফিস ভাঙচুর করা হয়েছিলো জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারের। তার শশুর বাড়িতেও হামলা হয়। সেদিনের স্মৃতি তিনি এখনো ভুলতে পারেননি।
আরও পড়ুন: প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে সন্ত্রাসী নিহত, আহত এক
হামলা হয় পৌরসভার মেয়র নায়ার কবিরের বাসাতেও। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম রুবেল, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভনের বাড়িও হামলার শিকার হয়।
ঘটনার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় ৪৯টি, আশুগঞ্জ থানায় ৪টি এবং সরাইল থানায় ২টি মামলা দায়ের হয়। এসব মামলার মধ্যে ২৭টি সদর থানায়, ১০টি সিআইডি, ৯টি পিবিআই, ৪টি জেলা গোয়েন্দা শাখায়, ৩টি আশুগঞ্জ থানায় এবং ২টি সরাইল থানায় তদন্তাধীন রয়েছে।
৫৫টি মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৭৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১২০ জন আসামি বর্তমানে জেলহাজতে এবং ৬৩৮ জন আসামি জামিনে রয়েছেন। তবে তাণ্ডবের মামলায় ৭৫৮ জন গ্রেপ্তার হলেও এজাহারে ছিল মাত্র ৪৬ জনের নাম।
জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন, পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ঘটনাগুলো তদন্ত করছে এবং তদন্ত কার্যক্রম অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। পুলিশ মামলাগুলো নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে স্থিতিশীল রাখতে করণীয় সবই করা হচ্ছে।
তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ এমন ঘটনা আর দেখতে চান না। তাদের আশঙ্কা, হেফাজত যেভাবে দিনকে দিন বিকশিত হচ্ছে আবার একই তাণ্ডব ঘটাতে পারে।
একাত্তর/আরবিএস
