‘শিশু-কিশোর ও যুবকদের মাদক, ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিষবাষ্প থেকে নিরাপদ এবং দূরে রাখতে স্কাউটিং ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ।
রোববার (২৭ মার্চ) বিকেলে কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হক সরকারি কলেজ মাঠে পাঁচদিন ব্যাপী ‘তৃতীয় জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্কাউট ক্যাম্প’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আমার বিশ্বাস স্কাউটিংই পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আধুনিক, প্রগতিশীল ও সৃজনশীল করে গড়ে তুলতে। দেশের চলমান অগ্রযাত্রায় নেতৃত্ব দানের জন্য আগামী প্রজন্মকে স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করতে হবে।’
রাষ্ট্রপতি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ দেশের যে কোন প্রয়োজনে স্কাউট সদস্যরা দেশপ্রেমিক ও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে আত্মনিয়োগ করবে। বিভিন্ন সমাজ সেবামূলক কাজের পাশাপাশি দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও আর্তমানবতার সেবায় স্কাউটদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ স্কাউটসদের উদ্দেশ্যে বলেন, সবাইকে কঠোর পরিশ্রম ও অনুশীলনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে স্কাউট আদর্শের প্রতিফলন ঘটাতে হবে এবং দেশের যে কোনো প্রয়োজনে একজন প্রকৃত দেশ প্রেমিক ও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে তদের আত্মনিয়োগ করতে হবে। তিনি বলেন, নতুন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে লেখাপড়ার পাশাপাশি মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠতে পারে, সে ব্যাপারে স্কাউট আন্দোলন কার্যকর ভ‚মিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে সরকারের যুগোপযোগী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলেই বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে।
করোনা মহামারির ভয়াবহতা কমে আসলেও এখনো শেষ হয়ে যায়নি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি স্কাউটসসহ সকলকে সচেতন থাকারও পরামর্শ দেন। এই স্কাউট ক্যাম্পে অংশগ্রহণ একটি কার্যকর প্রশিক্ষণের মতো উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, রোভার স্কাউটরা দুর্যোগে তাদের করণীয় বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।
এ সময় রাষ্ট্রপতি হামিদ তৃতীয় জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্কাউট ক্যাম্প উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকেট অবমুক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্কাউটস এর সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ, ক্যাম্প চীফ ও প্রধান জাতীয় কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান এবং জাতীয় কমিশনার এম এম ফজলুল হক আরিফ বক্তব্য রাখেন।
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রপতির জ্যেষ্ট সন্তান রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম, পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার)সহ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
একাত্তর/এসএ
