পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজের জরাজীর্ণ ছাত্রাবাসে থাকা আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ছাত্রবাসের দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
বুধবার (৬ এপ্রিল) বেলা ১২টায় পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজের প্রকল্প পরিচালক ডা.আবদুল মতিনের কাছে তারা এ স্মারকলিপি তুলে দেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, ২০১৪ সালে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়। এর পর থেকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের বিভিন্ন স্থাপনা মেডিক্যাল কলেজে রূপান্তর করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
একাধিক শিক্ষার্থী জানান, জেনারেল হাসপাতালের পুরাতন ভবনে মেডিক্যালে কার্যক্রম চলমান থাকায় প্রায়ই বিভিন্নস্থানে ফাটল, পলেস্তারা খসে পড়া, নাজুক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বর্ষাকালে ড্রেনের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার নিত্য দিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
২০২০ সালের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষে নতুন ছাত্রাবাসে হস্তান্তরের কথা থাকলেও কাজ শেষ না হওয়ায় এখন পর্যন্ত তাদের জরাজীর্ণ ভবনে থাকতে হচ্ছে।
তারা জানান, ২০২১ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পটুয়াখালীতে মেডিক্যালে পরিদর্শনে আসেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনের মাধ্যমে ছাত্রাবাস হস্তান্তরের দাবি জানান। ছয়মাস আগে তাদের নব নির্মিত ছাত্রাবাসে যাওয়ার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় তাদের জরাজীর্ণ ছাত্রাবাসে থাকতে হচ্ছে। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ এ ছাত্রাবাসে তারা নিরুপায় হয়ে অবস্থান করছেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) রাতে ও বুধবার সকালে ছাদের পলেস্তারা খসে বিছানার ওপর পড়েছে। সৌভাগ্যক্রমে সেখানে কেউ অবস্থান না করায় বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি।
আরও পড়ুন: জামিন নাকচ, কারাগারে বিএনপি নেতা ইশরাক
শিক্ষার্থীরা বলেন, জরুরি ভিত্তিতে তাদের নতুন ছাত্রাবাসে স্থানান্তর করা না হলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তাদের শান্ত করে ক্যাম্পাসে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের নতুন ছাত্রাবাসে স্থানান্তর করা হবে।
একাত্তর/এসি
