সুনামগঞ্জে হাওরে একের পর এক বাঁধ ভাঙছে আর ডুবছে কৃষকের শ্রমে-ঘামে ফলানো সোনার ধান। গত এক সপ্তাহে ১৪টি হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে চার হাজার হেক্টর জমির কাঁচা বোরো ধান তলিয়ে গেছে।
এর জন্য ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন কৃষকরা। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী।
গেলো এক সপ্তাহের বেশি পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ধসে একের পর এক হাওরে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের সারা বছরের আহার। একমাত্র ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢল নামছে। এতে অস্বাভাবিকভাবে সুনামগঞ্জ জেলার নদ-নদী ও হাওরের পানি বাড়ছে।
ঝুঁকিতে পড়েছে জেলার সব হাওরের ফসল। একে পর পর এক হাওরের বাঁধ ভেঙে ফসল তলিয়ে যাচ্ছে। মানুষজন দিনরাত বাঁধে অবস্থান করে স্বেচ্ছাশ্রামে কাজ করছেন।
গত শনিবার প্রথমে বাঁধ ভেঙে তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওরের ফসল তলিয়ে যায়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে বাঁধ ভেঙে ফসলহানি ঘটে চাপতির হাওরে।
সুনামগঞ্জে ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে ১৪টি হাওরের সাড়ে চার হাজার হেক্টর জমির কাঁচা বোরো ধান তলিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন পাঁচ উপজেলার ১৫ হাজার কৃষক। অন্যান্য হাওরও রয়েছে ঝুঁকির মুখে। ফসল হারানোর আতঙ্কে জমির আধা পাকা ধান কেটে ফেলছেন কৃষকরা। চৈত্রের কাঠফাটা রোদে মানুষ কাঁচা ধান কাটছেন।
ছোট ছোট নৌকার করে সেগুলো আনছেন পাড়ে। নারী-শিশুরা সেই কাঁচা ধান তুলছে বাড়িতে। কিন্তু ধানের মান কতটুকু ভালো হবে তা নিয়ে রয়েছে দুশ্চিন্তা।
এছাড়া ধার দেনা করে ফসল আবাদ করায় ঋণ পরিশোধ নিয়েও আছেন শঙ্কায়। এমন দুর্গতির জন্য ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়মকেই দুষছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। অভিযোগের বিষয়ে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম জানান, হাওরে ফসলহানি ও বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতি খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি বলেন, হাওরে বাঁধ নির্মাণে কারও অনিয়ম বা গাফিলতি থাকলে তার বিরুদ্ধে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জ জেলায় এবার দুই লাখ ২২ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।
