নওগাঁর রাণীনগরে কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি। গত দুই রাতে উপজেলার কামতা, হাড়াইল, শংঙ্করপুর ও খট্টেশর গ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে এসব বাড়ি ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়। ফলে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে রাণীনগর উপজেলার কয়েকটি এলাকা ঘুরে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতে ব্যাপক ঝড় শুরু হয়। এই দুই রাতের ঝড়ে মুহুর্তেই উপজেলার কামতা, হাড়াইল হিন্দুপাড়া, শংঙ্করপুর ও খট্টেশর গ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে প্রায় শতাধিক বাড়ির টিনের চালা উড়িয়ে নিয়ে যায়। আবার কারও কারও মাটির বাড়ি ও বাড়ির প্রাচীর ঝড়ে ভেঙ্গে গেছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাজারে দোকানপাটও লন্ডভন্ড হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্থ উপজেলার হাড়াইল হিন্দুপাড়া গ্রামের রাখাল চন্দ্র বলেন, ১০ থেকে ১৫ মিনিটের ঝড়ে আমার একতলা বাড়ি টিনের চালা পুরোটাই উড়ে গিয়ে সম্পূর্ণ টিন নষ্ট হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে অন্যের বাড়িতে থেকে বাড়ি ঠিক করা শুরু করেছি। তিনি আরও বলেন, শুধু আমার বাড়ি না গ্রামের অনেকের ঘর বাড়ি এভাবে ঝড়ে নষ্ট হয়েছে। আমরা খেটে খাওয়া মানুষ, বাড়িতে খাবারের কিছু নেই। এরপরেও এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের কোন খোঁজ খবরও নেননি।
ক্ষতিগ্রস্থ কামতা গ্রামের আব্দুল মজিদ জানান, ঝড়ে আমার বাড়ির সব টিন উড়ে গেছে। এছাড়া বাড়ির প্রাচীর ও গরুর ঘরের চাল উড়ে যায় গিয়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায়।
সদরের খট্টেশর গ্রামের মোজাম্মেল সরদার জানান, এই ঝড়ের তান্ডবে আমার বাড়ির টিনের চালাসহ বাড়ির বারান্দার চালা উড়ে যায়। এতে করে আমার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রাণীনগর উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা শাহাদত হুসেইন বলেন, ঝড়ের তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করা হচ্ছে। তবে কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্থদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। পরবর্তীতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বুঝে নগদ অর্থ ও টিন দেওয়ার উদ্দ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
একাত্তর/এসএ
