চট্টগ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে প্রাণ দিতে হলো সাত বছরের শিশু আল আমিনকে। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর শিশুটির সৎ বাবা মোকাররম হোসাইনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাত ১০টার দিকে শিশু আল আমিনের মৃত্যু হয়।
সিএমপি'র উপ-পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, আল আমিনকে তার সৎ বাবা মারধোর করতো। প্রাথমিক সুরতহালে সেই প্রমাণও পাওয়া গেছে।
প্রথম স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর আগে মোকাররমকে বিয়ে করেন ইয়াসমিন। থাকতেন নগরীর চকবাজার এলাকায়। আল আমিন থাকতো তাদের সাথেই।
অভিযোগ রয়েছে বিয়ের পর থেকেই আলা আমিনকে মেনে নিতে পারেননি সৎ বাবা মোকাররম। প্রায়ই তাকে মারধোর করতেন তিনি। এনিয়ে আল আমিনের মায়ের সঙ্গে ঝগড়াও হতো।
রোববার বেলা ১১টায় দুষ্টুমি করায় আল আমিনের গলা টিপে ধরেন মোকাররম। এতে তার শ্বাস আটকে যায়। পরে শিশুটির মা চমেক হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে রাত ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন সৎ বাবা মোকাররম হোসেন। সোমবার বিকেলে বহদ্দারহাট এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে সকালে সকালে আল আমিনের মা ইয়াসমিন আক্তার বাদী হয়ে মোকাররমের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার জসিম উদ্দিন জানান, রোববার শিশু আল আমিনকে বাসায় রেখে কাজে যান তার মা। তখন মোকাররম হোসেন বাসায় ছিলেন।
রাতে মোকাররম ইয়াসমিনকে ফোন করে জানান আল আমিন বাথরুমে পড়ে অজ্ঞান হয়ে গেছে। পরে আল আমিনকে চমেকে নেয়ার পর পালিয়ে যান মোকাররম।
আরও পড়ুন: ফুড ডেলিভারির আড়ালে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ছয়
তিনি আরো জানান, শিশুটির বুক, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, ভাইকে নিরপরাধ দাবি করেছেন মোকাররমের বোন রাশেদা বেগম। এ ঘটনার অধিকতর তদন্তের জন্য মোকাররমের রিমান্ডের আবেদন করবে পুলিশ।
ইয়াসমিন আক্তার গৃহকর্মীর কাজ করেন। মোকাররম হোসেন ভ্রাম্যমাণ সবজি বিক্রেতা। তারা নগরের চকবাজার থানাধীন অলি খাঁ মসজিদ এলাকায় থাকতেন।
একাত্তর/আরএ
