মহাসড়ক থেকে শুরু করে বাসাবাড়িতে ত্রাসের নাম হয়ে উঠেছিলো
ঠান্ডা-শামীম বাহিনী। ঠান্ডা আর শামীম দুই শীর্ষ সদস্যের নামে গড়ে উঠে এই বাহিনী।
যাদের নেশা ও পেশা হয়ে উঠেছিল ডাকাতি। দলের সব সদস্যই এই অপকর্ম হাত পাকিয়েছেন
রীতিমতো প্রশিক্ষণ নিয়ে।
এই আন্তঃজেলা ডাকাত দলটি সাভারের হেমায়েতপুরে বলিয়ারপুরে একটি ব্যাটারির কারখানায় ডাকাতির পরিকল্পনা করেছিলেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই তারা র্যাবের হাতে আটক হন। র্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-৩-এর আভিযানে শুক্রবার (৩ জুন) দিবাগত রাতে সাভার থেকে ঠান্ডা-শামীম বাহিনীর ১১ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন- ঠান্ডা-শামীম বাহিনীর মূলহোতা শামীম ওরফে সব্দুল, আনিসুর রহমান ওরফে ঠান্ডা,সালাউদ্দিন, ইখতিয়ার উদ্দি, সাইফুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর সরকার, সজিব ইসলাম, জীবন সরকার, স্বপন চন্দ্র রায়, মিনহাজুর ইসলাম ও মাধব চন্দ্র সরকার।
শনিবার দুপুরে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এই ডাকাড চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ঠান্ডা-শামীম বাহিনীর মূলহোতা শামীম ওরফে সব্দুল এবং তাদের সেকেন্ড ইন কমান্ড আনিসুর ওরফে ঠান্ডা। তাদের নাম অনুসারে ওই বাহিনীর নাম রাখা হয় ঠান্ডা-শামীম বাহিনী। বাহিনীর সদস্যরা অন্ধকার রাস্তায় ওৎ পেতে থাকতেন।
ডাকাতি করার জন্য আগেই নির্ধারিত স্থানে ডাকাত দলের সদস্য টার্গেট বাস, ট্রাক ও মাইক্রো সম্পর্কে সংকেত দিতেন। সংকেত পাওয়া মাত্রই ডাকাত দলের মধ্যে গাছ কাটা দায়িত্বে থাকা সদস্যরা দ্রুত গাছ কেটে তা রাস্তায় ফেলে দিতেন।
অন্যদিকে, ডাকাত দলের অপর সদস্যরা গাড়ির চালক ও যাত্রীদের অস্ত্র দেখিয়ে করে সব লুটে নিতেন। যেখানে গাছ কাটার সুযোগ থাকে না সেখানে তারা চালকের চোখে আলো ফেলে গাড়ি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডাকাতি করতেন।
র্যাব মুখপাত্র বলেন, জেলহাজতে থাকার সময় তাদের দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন অপরাধীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে। পরে জামিনে বের হয়ে তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে ডাকাত বাহিনী গড়ে তোলেন। তাদের বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ২৫ জন।
এছাড়া, তারা যে এলাকায় ডাকাতি করার পরিকল্পনা করেন ওই এলাকার স্থানীয় অপরাধী ডাকাত-মাদক ব্যবসায়ী ছাড়াও পরিবহণ শ্রমিক, গোডাউনের কর্মচারী ও নৈশপ্রহরীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ডাকাতির পরিকল্পনা করে থাকেন।
খন্দকার আল মঈন বলেন, আটক সালাউদ্দিন ডাকাতির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। সব দিক বিবেচনা করে আনিসুর, শামীম এবং সালাউদ্দিন একত্রে বসে ডাকাতির কর্ম পরিকল্পনা ঠিক করেতেন।
আর সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ডাকাতির জন্য নির্ধারিত স্থানে সালাউদ্দিন পূর্বেই অবস্থান করে তথ্য সংগ্রহ করতেন। ডাকাতি শেষে নির্বিঘ্নে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার বিষয়ে ঠান্ডা-শামীমের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হতো।
বাহিনীর অন্যতম সদস্য আটক ইখতিয়ার উদ্দিন পেশায় ড্রাইভার। বিভিন্ন সময় ডাকাতির ধরন অনুযায়ী মিনি ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ চাহিদা অনুযায়ী যানবাহন সরবরাহ করতেন। তিনি নিজেই সেই সব পরিবহনে চালকের আসনে থাকতেন। লুটের মাল পরিবহণের দায়িত্বও ছিলো তার।
আনিসুর ২০০৪ সাল থেকে ডাকাতি করে আসছেন। ২০১৬ সালে শামীমের সঙ্গে তার পরিচয়ের সূত্রে তারা একসঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করতেন। এছাড়া, এই বাহিনী তাদের ডাকাতির ধরন এবং চাহিদা অনুযায়ী ভাড়ায় লোকবল সংগ্রহ করে থাকে।
তারা গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, বগুড়া, মানিকগঞ্জ, সাভার, গাজীপুর,টাঙ্গাইলসহ নানা এলাকায় অসংখ্য ডাকাতি করেছেন বলে জানা গেছে। ঠান্ডা-শামীম বাহিনীর আটক সব সদস্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
শুধু মহাসড়কে নয়, এরা ডাকাতি করে বাসাবাড়িতেও। কারাগারে থাকার সময় এই বাহিনীর সদস্যরা একে অন্যের সঙ্গে পরিচিত হয়। বর্তমানে বাহিনীটির সদস্য সংখ্যা ২৫। এই বাহিনীর সদস্যরা একেকজন একেক বিষয়ে দক্ষ। সেই অনুযায়ী তাদেরকে কাজ লাগানো হতো।
ডাকাতি থেকে প্রাপ্ত মালামালের অর্ধেক আনিসুর এবং শামীম ভাগ করে নিতেন। আর অর্ধেক মালামাল অন্যদের কাজের গুরুত্ব অনুযায়ী ভাগ করে দেয়া হতো। ডাকাতি থেকে প্রাপ্ত সম্পদ ভোগ বিলাস ও মামলার খরচ মেটাতে ব্যয় করতেন বলে জানা গেছে।
একাত্তর/এসএ
