বগুড়ার সোনাতলায় ১৫ বছর বয়সী রাকিব হত্যার রহস্য উন্মোচন ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করছে বগুড়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
রোববার (৫ জুন) দুপুরে বগুড়া পিবিআই-এর পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেন তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, গত ৩১ মে এক নারীর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রাকিবকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তার দুই বন্ধু। পরে শুক্রবার (৩ জুন) তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পরেই বগুড়া পিবিআই নিজ উদ্যোগে মামলাটি গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করে। প্রথমেই তারা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার হিয়াতপুর গ্রামের এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করে।
পরে তার দেয়া তথ্যমতে একই এলাকার আহসান হাবীব সজীব (২০) নামের এক যুবককে আটক করা হয়। আটক সজীব হত্যার ঘটনা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন।
স্বীকারোক্তিতে তিনি জানান, রাকিবের সাথে বন্ধুত্বের সুবাদে তারা প্রতিনিয়ত গভীর রাত পর্যন্ত ফ্রি-ফায়ার ও পাবজি গেম খেলতেন। এছাড়া মাঝেমধ্যেই তারা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে নারী 'ভাড়া' করে নিয়ে আসতেন।

সজীব আরও জানান, ঘটনার দিন আহসান হাবীব সজীব রাকিবকে এক নারীকে 'ভাড়া' করার কথা জানান। সে অনুযায়ী রাকিব, সজীব ও তাদের আরেক বন্ধু রাত আটটার দিকে সোনাতলা পৌর এলাকার লাহিড়ীপাড়া মাঠে যান। সেখানে কে আগে ঘনিষ্ঠ হবেন তা নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে বাকি দুইজন ক্ষিপ্ত হয়ে রাকিবের মাথায় একটি গাছের ডাল দিয়ে আঘাত করেন।
আরও পড়ুন: শিশুকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগে দুই কিশোর গ্রেপ্তার
স্বীকারোক্তিতে সজীব বলেন, এরপর রাকিবকে বারবার ডাকার পরও সাড়া না দেয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তারা। এরপর রাকিবের মৃত্যু নিশ্চিত করতে সজীব তার গলা টিপে ধরেন ও তার মরদেহ টেনে হিঁচড়ে পাশের একটি ডোবার মধ্যে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদঘাটন, আসামিদের গ্রেপ্তার ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গাছের ডাল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আসামি আহসান হাবীব সজীব ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
