কুড়িগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় এবার পটলের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলায় প্রায় দুইশো পঞ্চাশ হেক্টর জমিতে পটলের আবাদ হয়েছে। আর শুধুমাত্র সদর উপজেলায় পটলের আবাদ হয়েছে ৬২ হেক্টর জমিতে।
কিন্তু ফলন ভালো হলেও নানা বিড়ম্বনায় পড়েছেন চাষীরা। টানা বৃষ্টি আর ঝড়ে ক্ষতিতে পড়েছেন তারা। বলছেন, পটল চাষে প্রতি বিঘা জমিতে সবমিলিয়ে ৩০-৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ এখন প্রতি বিঘা জমির উৎপাদিত পটল ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকায় বিক্রির আশা থাকলেও পটলের দাম পাচ্ছেন না তারা। প্রতি মণ পটল বাজারে বিক্রি হচ্ছে দুইশো থেকে দুইশো পঞ্চাশ টাকা দরে।
এছাড়াও গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পটলের দাম কমার কথাও জানান চাষীরা। বলছেন, বৃষ্টিতে বেশিরভাগ গাছ মরে গেছে। আর এমন সংকটে পটলের দাম কেজি প্রতি কমেছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। আর পাইকারদের কাছে প্রতি কেজি পটল বিক্রি হচ্ছে ৬ থেকে ৭ টাকায়।

সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের উত্তর নওয়াবস গ্রামের পটল চাষী নূর ইসলাম বলেন, ‘আমি এক বিঘা জমিতে পটলের আবাদ করছি। প্রথমের দিকে পটলের খুবই ভালো দাম পেয়েছি। এখন আর ভালো দাম পাচ্ছি না। আগে তো এখানকার পটল দেশের বিভিন্ন এলাকায় যেত, এখন আর যাচ্ছে না।
একই ইউনিয়নের সিতাইঝাড় গ্রামের মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে পটলের গাছ মরে যাচ্ছে, ক্ষেতে পানি জমেছে। বর্তমানে পটল বাইরের জেলাতে না যাওয়ার কারণে দাম অনেক কমেছে। না বিক্রি করে তো কোন লাভ নাই, যা পাচ্ছি তাই লাভ, এতো পটল কি করবো আমরা?’

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল রশিদ বলছেন, যে সময় বাজারে কোন সবজির উৎপাদন বেশি হয় ঠিক সে সময়ে দামটা একটু কমে যায়। বর্তমানে বাজারে ৭ থেকে ৮ টাকা প্রতি কেজি পটল বিক্রি করছেন চাষিরা। কৃষকরা এতো টাকা পয়সা খরচ করে যদি ন্যায্য মূল্য না পায় তা তো অবশ্যই হতাশার।
একাত্তর/ এনএ
