বন্যা পরিস্থিতিতে সিলেট ও আশেপাশের এলাকায় ৪৭ মৃত্যু

আপডেট : ২৪ জুন ২০২২, ০৯:৪৮ এএম

ভয়াবহ বন্যা উপদ্রুত এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে গত এক সপ্তাহে সিলেট বিভাগে ৪৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছেন দুর্গত এলাকার লোকজন।

এরমধ্যে বেশিরভাগ বন্যার পানিতে ডুবে, বজ্রপাতে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, টিলা ধসে এবং সাপের কামড়ে মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মারা যাওয়াদের মধ্যে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৪৭ জনের খবর জানতে পেরেছি।

তিনি বলেন, মারা যাওয়াদের মধ্যে সর্বাধিক সুনামগঞ্জে ২৬ জন, সিলেট জেলায় ১৬, মৌলভীবাজারে ৪ জন, হবিগঞ্জে একজন। মারা যাওয়াদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছেন।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার বসত ঘরে ডুবে পানিতে মারা যাওয়া বাহার নামে এক জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আগেরদিন জৈন্তাপুরে বন্যায় নিখোঁজ এক জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গত বুধবার (২২ জুন) পর্যন্ত সুনামগঞ্জে ১৭ জনের মারা গেলেও বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে।  

সিলেটে টিলাধসে একজন, বন্যার পানিতে বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে স্পৃষ্ট হয়ে ২ জন এবং নৌকাডুবিতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তন্মধ্যে সিলেটের বিশ্বনাথে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান।

জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল বশিরুল ইসলাম জানান, বন্যার পানিতে ডুবে তার উপজেলায় মা-ছেলেসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আহমেদ হোসাইন জানান, জেলায় বজ্রপাতে ৩ জন ও বন্যার পানিতে ডুবে ২৩ জন এবং মৌলভীবাজারে সাপের কামড়ে ২ জনের, টিলাধসে একজন এবং বন্যার পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হবিগঞ্জে বন্যার পানিতে ডুবে এক জন মারা যান।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৌলভীবাজারে এখন পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে টিলাধসে একজন, বন্যার পানিতে ডুবে এক শিশু ও মাছ ধরতে গিয়ে জুড়ি ও কুলাউড়া উপজেলায সাপের কামড়ে ২ যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

গত ১৫ জুন থেকে সিলেট বিভাগে ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে বন্যার সৃষ্টি হয়। পানিতে ডুবে গেছে সিলেট জেলা ও নগরের ৮০ ভাগ এলাকা। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলার অন্তত ৯০ ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়। স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ডুবে যায় এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিপর্যয় ঘটে জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এতে বিভাগের সোয়া কোটি জনসংখ্যার অন্তত ৪০ ভাগ লোকজন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হন। বন্যায় জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।


একাত্তর/এআর

টানা ৯ দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় সাত লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের পাঁচ জেলার কৃষকদের দ্রুত চাষাবাদে ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
চট্টগ্রামে বন্যায় প্রায় সাত লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ইতোমধ্যে এক লাখ মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের...
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতিতে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। নেত্রকোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় উব্দাখালী নদীর পানি কমলেও মগড়া নদীর পানি নতুন করে...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার তাদের ভাতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে। রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে এ ভাতা বাড়ানো হবে, যাতে...
ম্যাচের শুরুটা হয়েছিল দারুণ এক ঝড় দিয়ে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ঝড় এসে থামলো এক অচেনা ও করুণ ধ্বংসস্তূপে! ত্রিদেশীয় সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং প্রদর্শনী দেখিয়ে বাংলাদেশকে এক কথায় উড়িয়ে দিয়েছে...
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো গভীর শোকে। ভারতের কলকাতার একটি জনপ্রিয় পূজামণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড় ও বৃষ্টির জেরে সৃষ্ট পদদলনে ঘটনায় অন্তত ১৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত...
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী পাটোয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন এলাকায় কাঠের তৈরি তিনতলা টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় সংঘটিত ভয়াবহ আগুনে ১০ জন পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর সব তথ্য সামনে এসেছে।...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর