ঠাকুরগাঁওয়ে ব্লাকমেইল করে রাতের আধারে ডেকে নিয়ে এক কিশোরী মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের পর হত্যার উদ্দেশ্যে বস্তাবন্দী করে টাঙ্গন নদীতে ফেলে দিলেও শেষ পর্যন্ত প্রাণে বেঁচে যান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বস্তার ভেতর থেকে তাকে উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় ভর্তি করা হয় ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাত্র এক মাস আগে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার মেয়েটিকে লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে ভর্তি করা হয় ঠাকুরগাঁওয়ের একটি কওমি মহিলা মাদ্রাসায়। ভর্তির পর ঈদের ছুটি কাঁটিয়ে কয়েকদিন আগে মাদ্রাসায় ফিরে কিশোরী মেয়েটি। বুধবার রাতে কতিপয় যুবক কৌশলে তাকে ডেকে অন্যত্র নিয়ে যেতে চাইলে রাজি হয়নি কিশোরীটি। এরপর তাকে শারীরিক নির্যাতনের পর হাত-পা বেঁধে বস্তায় ভরে শহরের টাঙ্গন নদীতে ফেলে দেয় যুবকেরা।
স্থানীয়রা জানান, বস্তা স্রোতে ভেসে নদীর ধারে আটকে গেলে সকালে তারা দেখতে পায়। এরপর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে প্রাণে বেঁচে যায় কিশোরীটি।
কিশোরীর পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, তাকে মাদ্রাসায় ভর্তির আগে গ্রামের বাড়িতে ফিরোজা নামে এক নারীকে বাসা ভাড়া দেয়ার পর ওই নারী কিশোরীটির বিভিন্ন ধরনের ছবি তুলে বিভিন্ন জনের কাছে ছড়িয়ে দেয়। আর সেই ছবি নিয়ে ব্লাকমেইল করার চেষ্টা চালায় ওই যুবকরা। তাদের হাত থেকে রক্ষায় গত মাসেই তাকে ভর্তি করা হয় ঠাকুরগাঁওয়ের ওই মহিলা মাদ্রাসায়। তবে খোঁজ-খবর নিয়ে মাদ্রাসা পর্যন্তও হাজির হয় যুবকেরা।
ভুক্তভোগী কিশোরী জানান, তার আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দেবার ভয় দেখিয়ে ব্লাকমেইল করে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল ওই যুবকরা। তাদের সাথে যেতে না চাইলে নির্যাতনের পর অচেতন করে ফেলা হয় তাকে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জানান, শিক্ষার্থীর পূর্বের ঘটনা পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়নি। জানালে আমরাও সতর্ক থাকতাম তার বিষয়ে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, ঘটনার পর পুলিশ, ডিবি, পিবিআইসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকটি সংস্থা অপরাধীদের সনাক্তে মাঠে নেমেছে।
একাত্তর/জো
