নড়াইলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত কিশোরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
সদর উপজেলার কর্মচঁন্দ্রপুর গ্রামে প্রতিপক্ষের হাতুড়ি পেটার শিকার হয়ে জুয়েল ভূঁইয়া নামে এক কিশোরের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যার পর তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের স্বজনরা প্রতিপক্ষের ২৫টির মত বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে চার পুলিশ সদস্য আহত হলে ফাঁকাগুলি ছোড়ে পুলিশ।
ঘটনার সাথে জড়িত ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কর্মচঁন্দ্রপুর গ্রামের আতিয়ার সিকদার পক্ষ ও ইকরাম মোল্য পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধে চলে আসছিলো।
বিরোধকে কেন্দ্র করে ইতিপূর্বে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উভয়পক্ষে মামলা মোকদ্দমাও চলমান রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় হামলার শিকার হয় পান্নু ভূঁইয়ার ছেলে জুয়েল। তিনি পার্শ্ববর্তী মাদ্রাসাবাজারে একটি সবজির আড়তে কাজ করতো।
গত ৯ আগস্ট সকালে প্রতিদিনের মতো সে সকালে কাজে যাওয়ার সময়, গ্রাম্য বিবাদে কিশোর জুয়েলের কোন প্রকার সম্পৃক্ত না থাকা স্বত্বেও শুধুমাত্র প্রতিপক্ষ গ্রুপের হওয়ার অপরাধে আতিয়ার মোল্যা গ্রুপের লোকজন তাকে নির্মমভাবে হাতুড়ি পেটা করে ফেলে রেখে যায়।

এ অবস্থায় স্বজন ও আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে, সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উচ্চতর চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলে পাঁচদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সন্ধ্যার দিকে তার মৃত্যু হয়।
জুয়েলের মৃত্যুর খবরে তার পক্ষের লোকজন প্রতিপক্ষের বেশ কয়েকটি বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
এসময় আতিয়ার সিকদার, উজ্জল শেখ, সুজন সেখ, তরিকুলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে টিভি, ফ্রিজ, আলমারি শোকেজসহ বাড়িঘরের যাবতীয় আসবাস ভেঙে তছনছ করে ফেলা হয়।
আরও পড়ুন: তিন বাসের সংঘর্ষ, দুইজন নিহত
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারীদের প্রতিহত করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাঁধে, ৬ রাউন্ড ফাঁকাগুলি ছুড়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সহকারী পুলিশ সুপার এস এম কামরুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।
একাত্তর/আরএ
