কুড়িগ্রামে চলতি রোপা আমন মৌসুমের শুরুতেই বেশ বিপাকে পড়েছেন আমন চাষীরা। একদিকে অনাবৃষ্টি আর অন্যদিকে, বিদ্যুৎ সংকট। তার ওপর আবার সার এবং ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধিতে চাষীরা গুনছেন অতিরিক্ত খরচ।
বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে এক বিঘা জমিতে বড় ট্রাক্টর এক চাষ করা খরচ নিতো ২৫০ টাকা। ছোট ট্রাক্টর এক চাষ খরচ নিতো ২০০ টাকা। এখন জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বড় ট্রাক্টর দিয়ে এক বিঘা জমিতে এক চাষ খরচ নিচ্ছে ৪০০ টাকা এবং ছোট ট্রাক্টরের খরচ ৩০০ টাকা।
এছাড়াও, আগে ইউরিয়া সারের বস্তার দাম ছিল ৮০০ টাকা। এখন তা বেড়ে গিয়ে ইউরিয়া সারের বস্তা প্রতি ১১৫০ থেকে ১২০০টাকা। শুধু জ্বালানী তেল ও সারসহ হালচাষে নয়, বেড়েছে কৃষি শ্রমিকের মজুরী, কীটনাশকের দামও।

ফুলবাড়ী উপজেলার চরগোরকমন্ডল এলাকার প্রবীন কৃষক গাজীবর রহমান এবং হাববর রহমান বলছেন, এ বছর বৃষ্টির দেখা না পেয়ে তারা প্রত্যেকে পাঁচ বিঘা জমিতে শ্যালো মেশিনের পানি দিয়ে আমনের চাষাবাদ করেছেন। ইতোমধ্যে আমন ধান রোপনের ২০ দিন পেরিয়ে গেছে অথচ বৃষ্টির দেখা নেই। টানা খরায় আমন ক্ষেত চৌচির। তাই বাধ্য হয়ে ক্ষেত রক্ষার্থে শ্যালোমেশিনের পানি দিয়ে ক্ষেত রক্ষা করছেন তারা।
এই দুই চাষী আরও জানান, সরকার ধানের দাম না বাড়ালে কৃষকদের লোকসান গুনতে হবে। বাধ্য হয়েই বালারহাট, বিডিআর বাজার ও আনন্দ বাজারে সরকারি বেঁধে দেওয়া দামের চেয়েও বেশি মূল্যে ডিজেল ও সার কিনছেন তারা।

কুরুষাফেরুষা এলাকার শৈলাল চন্দ্র রায় জানান, জ্বালানি তেল, রাসায়নিক সার, কৃষি শ্রমিকের মজুরী এবং আমনের চাষাবাদসহ সব ধরনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তিনি চরম দুচিন্তায় পড়েছেন। বলছেন, সরকার ধানের মূল্য না বাড়ালে তার মতো শতশত আমন চাষী লোকসানে পড়বেন।
নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষাফেরুষা গ্রামের আমন চাষি ছাইদুল ইসলাম ও চরগোরকমন্ডল এলাকার কৃষক কোরবান আলী জানান, সরকার ইউরিয়া সারের দাম বাড়ানোয় স্থানীয় বাজারে বস্তা প্রতি ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায় ইউরিয়া সার কিনছেন তারা। তাদের অভিযোগ, ধানের দাম নেই, আর স্থানীয় বাজারে ৯০০ টাকা মণে ধান বিক্রি করছেন তারা। এতে করে লোকসানই দেখতে পাচ্ছেন তারা।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াছমিন জানান, চলতি আমন মৌসুমে এ উপজেলায় ১১ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ১৫০ হেক্টর জমির আমন ধান লাগানো হয়েছে। খরায় যে সব জমির আমন ক্ষেত ফেঁটে চৌচির হয়েছে, উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে আমন চাষিদের আমন ক্ষেত রক্ষার্থে সম্পূরক সেচ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

কুড়িগ্রাম খামার বাড়ির ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মো. শামসুদ্দিন মিয়া জানান, এবছর জেলায় এক লাখ ১৯ হাজার ৯৫০ হেক্টর আমন আবাদের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এ পর্যন্ত অর্ধেকের বেশী আমন লাগানো হয়েছে।
তিনি মনে করেন, প্রকৃতি নির্ভর আমন আবাদে বৃষ্টি জরুরী। এবার বৃষ্টি কম হলেও কৃষকরা সেচ দিয়ে আমন ক্ষেত রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছেন। উৎপাদন খরচ বাড়লেও ন্যায্য দাম পেলে ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি।
একাত্তর/ এনএ
