বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে কুমিল্লায় জ্বালানি তেল পরিবহন ভাড়াসহ সকল দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং পুলিশ কর্তৃক গুলি করে ছাত্র নেতা নূরে আলম, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দুর রহিম হত্যার প্রতিবাদে নাঙ্গলকোটে বিক্ষোভ মিছিল বের করে উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
বুধবার (৩১ আগস্ট) সকাল ৯টায় নাঙ্গলকোট পৌর এলাকার লোটাস চত্বরে প্রতিবাদী শ্লোগানে উত্তেজিত বিএনপির কর্মীরা সড়কের ডিভাইডারে থাকা নৌকা প্রতীকসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে পৌর এলাকায় একসাথে জড়ো হতে থাকেন বিএনপির ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পরে পুলিশের বাধায় বিক্ষুব্ধ বিএনপির কর্মীদের পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। পরক্ষণেই চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।
একই সময়ে আওয়ামী লীগ অপর একটি মিছিল বের করে।
এরপর নাঙ্গলকোট পৌর এলাকার বেশ কয়েকটি সড়কে বিএনপির সাথে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় উভয় দলের নেতাকর্মীদের ছোড়া ইট পাটকেলে পুলিশসহ বিএনপি–আওয়ামী লীগ, সড়কের পথচারীসহ অন্তত ১২ জন আহত হন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজির আহমেদ ভুঁইয়া বলেন, বিএনপির পূর্ব নির্ধারিত সভায় কোনকিছু না বলেই পুলিশ লাঠিচার্জ করে। আর পুলিশ বাহিনীর সাথে এক হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরাও বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের ১০ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক অধ্যক্ষ সাদেক হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ শান্তিপূর্ণভাবে পৌর এলাকায় অবস্থান নেয়। বিএনপির নেতা-কর্মীরা পৌরসভার লোটাস চত্বরে ভাঙচুর করে। পুলিশ বিএনপির ভাঙচুরে বাধা দিলেই পুলিশকে লক্ষ করে ইট পাটকেল ছোড়ে তারা। পুলিশও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে তৎপরতা চালায়।
আরও পড়ুন: মাদ্রাসা ছাত্র আকাশ হত্যায় নারীসহ দুই জনের যাবজ্জীবন
বিএনপিকে বিক্ষোভের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন পৌর মেয়র আবদুল মালেক।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা অযথা ভাঙচুর চালান। ভাঙচুরে বাধা দিলে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এসময় ৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন।
একাত্তর/আরএ
