জগতের সকল অশুভ শক্তিকে দূর করে শুভ ও সুন্দরের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে শারদীয় দুর্গা পূজার পাঁচ দিন আগে থেকেই মৌলভীবাজার জেলায় শুরু হয়ে গেছে দেবী দুর্গার আরাধনা।
চা বাগান পরিবেষ্টিত শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও ইউনিয়নের ইছামতি চা বাগানে অবস্থিত শ্রী শ্রী মঙ্গলচণ্ডীর মন্দিরে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দেশের দেবী দুর্গার ৯টি রূপে ৯দিন দিনব্যাপী নবদুর্গা পূজার আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম দিন থেকেই নবদুর্গা পূজা দেখতে আসছেন সনাতন ধর্মালম্বীরা।
বৈদিক বিধান মতে, দেবী দূর্গার রয়েছে ৯টি রূপ। যেগুলো হলো, শৈলপুত্রী, ব্রম্মচারিনী, কুস্মান্ডা, স্কন্দমাতা, কাত্যায়নী, কালরাত্রী, মহাগৌরি, চন্দ্রঘন্টা ও সিদ্ধিধাত্রী, -এই ৯ রূপ মহালয়ার পরদিন থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে আগামী ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমী ও বিসর্জনের মধ্য দিয়ে।
এদিকে মৌলভীবাজার জেলায় এক হাজার পুজা মণ্ডপে কারিগররা যখন ব্যস্ত শেষ মূহুর্তের রংতুলি দিয়ে প্রতিমাকে সাজাতে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অপেক্ষায় থাকেন কবে আসবে মহাষষ্টী। অথচ তার আগেই মঙ্গলচন্ডী মণ্ডপে শুরু হয়ে যায় দশভূজা দেবীর আরাধনা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

করোনা মহামারির কারণে বিগত দুটি বছর নানা বিধিনিষেধে খুব জমকালোভাবে নবদূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে এবার নিজেদের ও দেশের মঙ্গল কামনায় দেবীর চরণে অঞ্জলি দিচ্ছেন ভক্তরা।
এদিকে মঙ্গলচন্ডী মণ্ডপে পৌরাণিক নিয়ম অনুযায়ী দুর্গার নয়টি রূপে পূজার্চ্চনার প্রথম দিনে দেবীকে শৈলপুত্রী রূপে পূজা করা হয়। এভাবে আগামী নবমী তিথি পর্যন্ত ব্রহ্মচারিণী, চন্দ্রঘন্টা, কুষ্মান্ডা, স্কন্ধ মাতা, কাত্যায়নী, কালো রাত্রী, মহা গৌরী ও সিদ্ধিদাত্রী রূপে পূজা করা হবে।
সেখানকার পুরোহিত ও প্রবীন শিক্ষক দীপংকর ভট্টাচার্য বলেন, এ পূজার্চ্চনা বয়ে আনবে সকল মানব ও জগতের জন্য শান্তি। অসুরকে দমন করে মা দুর্গা যেভাবে স্বর্গ রাজ্য জয় করেছিলেন ঠিক সেভাবে পৃথিবীর বর্তমান অশান্তি তিনি দূর করবেন এমনটাই আশা করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও।
মঙ্গলচন্ডী মন্ডপের পূজা কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত দাশ বলেন, এই দেবস্থলটি শ্রীমঙ্গলের সর্বাধিক প্রাচীন স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। প্রায় শতাধিক বছর ধরে এখানে রয়েছে মঙ্গলচন্ডী দেবথলী। এই ঐতিহাসিক স্থানটিকে ধরে রাখতে তারা বিগত ১২ বছর ধরে এখানে দেবীর নয়টি রুপে পূজা করে আসছেন। তবে মণ্ডপটির স্থায়ী রূপ দিতে প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও দানশীল ব্যক্তিদের সহায়তা। এলাকাটি শহর থেকে অনেক দূরে ও রাস্তাঘাট অনুন্নত থাকায় লোকজনের আসতেও কষ্ট হয়।

আরও পড়ুন: বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় সব পদ হারালেন আওয়ামী লীগ নেতা
এদিকে শারদীয় দূর্গার আগমনের আগেই দেশের একমাত্র মঙ্গলচন্ডী মন্দিরে দেবী দূর্গার ৯টি রূপে পূজাকে ঘিরে সার্বক্ষনিক মনিটরিং করছে পূজা উদযাপন পরিষদ।
পূজায় আগত সনাতন ধর্মালম্বীদের নিরাপত্তাসহ প্রতিটি বিষয়ে তারা কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ডা. হরিপদ রায়।
একাত্তর/আরবিএস
