জামালপুরর সরিষাবাড়ীতে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সাবেক স্বামী মাহিম মিয়াসহ তার কয়েক বন্ধুর বিরুদ্ধে। ধর্ষণের পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় জামালপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনা ঘটেছে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের গেন্দারপাড়া গ্রামে। এ ঘটনায় মাহিমসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার ওই গৃহবধূর (২৯ অক্টোবর) মরদেহ দাফন করা হয়।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ জানায়, গেন্দারপাড়া গ্রামের ফিরোজ আলমের পালিত মেয়ে সোনিয়া আক্তার। সাত মাস আগে উপজেলার জগনাথগঞ্জ ঘাট এলাকার মাহিম মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় সোনিয়ার।
পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই চার লাখ টাকা যৌতুকের জন্য সোনিয়াকে নির্যাতন কর আসছিল স্বামী মাহিম। এ নির্যাতন সহ্য করতে না পেয়ে দেড় মাস আগে স্বামীকে তালাক দেয় সোনিয়া। তালাক দেওয়ার কিছু দিন পর থেকে সোনিয়ার সঙ্গে নিয়মিত মুঠোফোনে যোগাযোগ করে আসছিল মাহিম।
এক পর্যায়ে পুনরায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) সোনিয়াকে ডেকে নিয়ে যায় মাহিম। বৃহস্পতিবার রাতে মাহিম ও তার কয়েকজন বন্ধু স্থানীয় এক মাদ্রাসার বাগানে নিয়ে সোনিয়াকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে মুখে বিষ ঢেলে দেয়। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
পরে রাতেই তাকে প্রথমে সরিষাবাড়ী ও পরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে মাহিম ও তার সহযোগীরা পালিয়ে আসে। শুক্রবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সোনিয়া।
আরও পড়ুন: নড়িয়ায় মাইক্রোবাস খাদে পড়ে বাবা ও মেয়ে নিহত
এ ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে মাহিম ও তার সহযোগীরা গা-ঢাকা দেয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাহিমসহ পাঁচজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহবত কবীর মুঠোফোনে জানান, মাহিমসহ পাঁচজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।
