কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এসময় ইটের আঘাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি গাড়ির গ্লাস ভেঙে গেছে।
শনিবার (৩০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে খোকসা পৌরবাজার এলাকায় এঘটনা ঘটেছে।
এদিকে সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের অপরাধে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান বলেন, শনিবার বিকেলে ঘোড়া এবং নৌকা প্রার্থী ও সমর্থকদের মাঝে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। রাতে উভয়পক্ষ পুনরায় সংঘর্ষে জড়ানোর পায়তারা করে। ইট-পাথর ছোড়াছুড়ি করে। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজ কার্যালয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে পৌরবাজার এলাকায় তার (ইউএনও) সরকারি গাড়ির পেছনের গ্লাস ভেঙে দেয় অজ্ঞাতনামারা। এ সংক্রান্ত মামলা প্রক্রিয়াধীন।
তিনি আরো বলেন, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।
তবে রাতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট নিক্ষেপের ঘটনা অস্বীকার করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোতাহার হোসেন খোকন।
তিনি বলেন, সন্ধ্যায় জানিপুর ইউনিয়নের একতারপুর হোটেল মোড়ে বাবুল আখতারের সমর্থক ও জানিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সাবেক চেয়ারম্যানের ভাইকে হাতুড় পেটা করেন। হয়তো সাবেক চেয়ারম্যানের লোকজন বাবুল আখতারের লোকজনের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে এ ঘটনা ঘটতে পারে। আমি বা আমার লোকজন ইউএনওর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত নয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বাবুল আখতার তার কর্মী সমর্থকের নিয়ে গড়াই নদের ঘাট পার হয়ে ওসমানপুরে প্রচারণায় যাচ্ছিলেন। আর ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোতাহার হোসেন খোকন তার সমর্থক - কর্মী নিয়ে বাজার এলাকায় প্রচারণা করছিলেন।

এসময় খেয়াঘাট এলাকায় দুপক্ষের স্লোগান, বাগবিতণ্ডা, কিল-ঘুষি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুলাল, তুষারসহ ৫ থেকে ৭ জন চাপা মারপিটের শিকার হন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে।
এবিষয়ে জানতে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বাবুল আক্তারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে মোবাইলে পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: গৃহবধূকে ধর্ষণের পর বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগে আটক পাঁচ
খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল মাছুম মুর্শেদ শান্ত বলেন, রাতে নৌকা প্রার্থীর অফিস এলাকায় লোকজনের জমায়েত এবং অবরুদ্ধের খবর শুনেছিলাম। আমি এবং আমার লোকজন কার্যালয়ে ছিলাম। সেখানে কি হয়েছি তা জানিনা।
খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপন বিশ্বাস বলেন, দুপক্ষের উত্তেজনা ঠাণ্ডা করে ফিরছিলাম। ফেরার পথে বাবুল আক্তার ও শান্ত সাহেবের অফিসের মাঝামাঝি এলাকায় পৌঁছলে সরকারি গাড়ির পেছনে ইট লাগে। এতে গ্লাস ভেঙে যায়। এ সংক্রান্ত মামলা চলমান। ভাঙা গাড়িটি বর্তমানে থানায় রয়েছে।
একাত্তর/আরএ
