বুধবার ভোরে চকরিয়ার মাতামুহুরী নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় আড়াই মাসের শিশু আনাছের মৃতদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। জানা যায়, নদীতে পাওয়া শিশু উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের মধ্যম সুরাজপুরের হোসাইন আলীর সন্তান।
শিশু মৃত্যুর এ ঘটনাকে প্রথম থেকেই সন্দেহের চোখে দেখে আসছিল পুলিশ। প্রথমেই সন্দেহের চোখ যায় শিশুর খালা আঁখি রহমানের দিকে। তিনি ৫ নভেম্বর বোনের বাড়িতে বেড়াতে আসেন।
চকরিয়া থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, ঘটনার তদন্তে বুধবার তাকে আটক করা হয়। এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বোনের শিশু সন্তানকে নদীতে ফেলে মেরে ফেলার কথা স্বীকার করেন তিনি।
জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে খালা আখিঁ রহমান (১৪) জানান, রাতে স্বপ্ন দেখেছেন তাকে বিশাল অর্থ দেয়া হবে যদি তিনি তার বোনের সন্তান আনাসকে নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন।
আঁখি আরও জানান, সেই স্বপ্নের জ্বিনের কথামতো শিশু আনাসকে নিয়ে নদী ঝাঁপ দেন তিনি। এসময় শিশু আনাস তার কাছ থেকে ছিটকে নদীতে ডুবে যায়। তারপর তিনি বাড়ি ফিরে যান।
শিশুটির মা শাকিলা বেগম জানান, ১৪ বছর বয়সের আঁখি রহমান গত কয়েক বছর ধরে বৈদ্যালীর (কথিত আধ্যাত্মিক চিকিৎসা) কাজ করে আসছে এলাকায়। সে বিপন্ন রোগীদের তাবিজ-কবচ দেওয়া ছাড়াও ঝাঁড়-ফুঁকও করে আসছে।
শাকিলা বেগম বলেন, মঙ্গলবার রাত ১২ টার সময়ও আনাসকে দুখ খাওয়েছি। ফজরের সময় ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার ছেলে বিছানায় নাই। তারপর খুঁজতে গিয়ে খবর পাই নদীতে ভাসছে। শিশু আনাস নদীতে কিভাবে গেছে জানি না।
এদিকে, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদি হয়ে চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় ইতিমধ্যে আঁখি রহমানকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: টস হেরে শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারত
এসব তথ্য নিশ্চিত করে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। তদন্তে গিয়ে তার খালা আঁখিকে জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্নে বিশাল অংকের গুপ্ত অর্থের তথ্যের কথা জানিয়ে ছেলেটিকে নদীতে ফেলে দেয়ার কথা স্বীকার করে। পরে তাকে আমরা এ মামলায় গ্রেপ্তার করেছি। তদন্তের পর আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
শিশু আনাসের মামার বাড়ির বিএমচর ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের ছৈনাম্মারঘোনা এলাকায়। সম্প্রতি শিশু আনাসের দাদী অসুস্থ হলে তাকে বাড়িতে দেখতে আসেন স্বজনেরা। তখন শিশুর খালা বৈদ্য আঁখি রহমান, ফুফু খাদিজা বেগমও বাড়িতে আসেন। ফুফুর বাড়ি সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিপুর গ্রামে। গত মঙ্গলবার রাতেও তারা একই বাড়িতে ছিলেন।
একাত্তর/আরবিএস
