বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলাকে ‘স্মার্ট’ হিসেবে গড়ে তুলতে পাইলটিং কার্যক্রম চলছে। এরই মধ্যে ফকিরহাটের সরকারি,বেসরকারি ও স্বায়িত্বশাসিত মিলে ৫৪টি দপ্তরকে ডিজিটালইজেশনের আওতায় আনা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ভূমি অফিস থেকে শুরু সব ধরণের সেবার ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে ফকিরহাটে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষও স্মার্ট হতে শুরু করেছে।
স্মার্ট ফকিরহাট বিনির্মাণ ও টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে স্থানীয় প্রশাসন, সকল স্তরের জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষ এক সঙ্গে কাজ করছে।
মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) বিকালে ফকিরহাট উপজেলার বেতাগা ফুটবল মাঠে ‘বেতাগা দিবসের’ অনুষ্ঠানে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মলয় চৌধুরী বলেন, জনগনই স্থানীয় সরকার পরিচালনা করছে। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হলে নিজেদের উন্নয়ন নিজেদেরকে করতে হবে।
তিনি বলেন, ফকিরহাটের বেতাগা ইউনিয়নে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক কর্মকান্ডসহ সব ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটেছে। এখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সর্বক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। বেতাগা ইউনিয়নকে মডেল হিসেবে দেশের অন্য স্থানে অনুসরণ করা হবে।
ফকিরহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপন দাশ জানান, বেতাগা দিবস হচ্ছে অনুভুতি ও বিশ^াস। অর্থাত প্রতিটি মানুষকে বিশ^াস করতে হবে যে, তার ভাল তাকেই করতে হবে। ইনিয়ন পরিষদকে সচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার সহিত স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে কাজ করতে হবে।
চেয়ারম্যান স্বপন দাশ আরো জানান, সরকার দেশে জেলা হিসেবে গাজিপুর এবং উপজেলা হিসেবে ফকিরহাটে স্মার্ট পাইরটিং প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করেছে। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের সব কটিতেই প্রযুক্তির ব্যবহার করে জনগণকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। উপজেলার সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। স্মার্ট ফকিরহাট গড়তে তারা সর্বক্ষেত্রে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
ফরিকাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন জানান,দেশের মধ্যে মাত্রা একটি উপজেলা ফকিরহাটকে স্মার্ট প্রকল্পের আওতায় নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশের যে ধারণা তা ফকিরহাটের মানুষ গ্রহণ করেছে। ফকিরহাটের মোট ৫৪টি সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়িত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে এরিমধ্যে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হয়েছে। ই-নথি এবং ডি-নথি শতভাগ ব্যবহারের মাধ্যমে সব ধরণের সেবা ডিজিটাল প্লাটফরমের মধ্যে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি দপ্তর থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে মানুষকে স্মার্ট প্রযুক্তির আওতায় এনে আধুনিকতার ছোয়ায় উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্প কর্মকর্তা ডা. শাহ্ মো. মহিবুল্লাহ্ বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ পুরোপুরি ডিজিটালাইস্ট হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা, আক্রান্ত রোগের নাম ও খাবার গ্রহণসহ নানা বিষয়ে টেটাবেজ হাসপাতালে সংরক্ষণ আছে। আগামী বছর ফকিরহাটে রোগীদের জন্য কি পরিমাণ ওষুধ এবং খাবার আসবে তা এই ডেটাবেজের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। কমিউনিটি ক্লিনিকে টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া জন্মনিবন্ধন, মৃত্যুনিবন্ধন, এবং মৃত্যুর কারণ প্রযুক্তির ব্যবহার করে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। স্মার্ট প্রযুক্তিকে স্বাস্থ্য সেবা পুরোপুরি ব্যবহার করা হচ্ছে।
বেতাগা আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সুপ্তা মজুমদার বলেন, তাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রজেক্টরের মাধ্যমে পাঠদানের পাশাপাশি অনলাইনের ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শতভাগ প্রযুক্তির ব্যবহার জানে।
কৃষক তপন দাস জানান, তারা স্মার্ট হতে চলেছে। এরিমধ্যে ইউনিয়ন ভ‚মি অফিস থেকে তারা প্রযুক্তির ব্যবহার করে জমির খাজনা পরিশোধ করছে।
ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম বলেন, নানা ক্ষেত্রে তারা এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করছে। সরকারি-বেসরকারি সব ক্ষেত্রেই স্মার্ট হয়ে উঠেছে।
গৃহণী তাপসী দাস জানান, আমারা নিজেরাই নিজেদের উন্নয়ের অংশিদার। সরকারি-বেসরকারি দপ্তরগুলোতে গেলেই প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে। আমারাও প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাই।
বিভিন্ন বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা হলে তারা জানায়, তাদের বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার পাঠদান করান শিক্ষকরা। তাদের বিদ্যালয়ে ডিজিটাল ল্যাব রয়েছে। দেশকে এগিয়ে নিতে গেলে প্রযুক্তির ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই। একারণে তারা বাড়ি থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সর্বক্ষেত্রেই ডিজিটালের ব্যবহার করতে চায়।
অনুষ্ঠানে বেতাগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.ইউনুস আলী শেখের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের ট্রেজারার অমিত রায় চৌধুরী,স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. শাহীনুজ্জামান, ফকিরহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপন দাস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন, ইউনিসেফের খুলনা বিভাগের চীফ ফিল্ড অফিসার মো. কাওসার হোসাইন প্রমুখ।
ফকিরহাটের বেতাগা ইউনিয়ন পরিষদ ৯ম বারের মতো ‘বেতাগা দিবসের’ আয়োজন করে। বেতাগা দিবসের আয়োজনকে ঘিরে উৎসবে মেতে উঠে ফকিরহাট বাসি। শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করে দিন ব্যাপি নানা অনুষ্ঠানে। বেতাগা দিবস উপলক্ষে মাঠে ৪০টি স্টল বসানো হয়। এক বছর ধরে উইনিয়নের বিভিন্ন উদ্ভবনী কর্মকান্ড তুলে ধরা হয় স্টলে। কৃষি থেকে শুরু করে খেলাধুলার সামগ্রীসহ নানা বিষয় ছিল স্টলগুলোতে। বেতাগা ইউনিয়নের শতভাগ মানুষ কর প্রদানকারি। অনুষ্ঠানে উচ্চ শিক্ষা ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ২৭ জনকে বৃত্তি প্রদান করা হয়। ৯ জন প্রতিবন্ধীকে হুইল চেয়ার, কন্যা বর্তিকা কর্মসূচির আওতায় ৯ জনকে সেলাই মেশিন এবং ৯ জন শিক্ষার্থীকে বাইসাকেল দেওয়া হয়। #
একাত্তর/এআর
