নওগাঁর রাণীনগরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে সর্ব রোগের চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পল্লী চিকিৎসক শরিফুল ইসলাম ওরফে জজের বিরুদ্ধে। উপজেলার ভাটকৈ বাজারে ঔষধের দোকান খুলে সর্ব রোগের ওই চিকিৎসক প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ জন রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে আসছে। এদিকে সর্ব রোগের ভুয়া চিকিৎসক জজের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার পর অনেকেই পঙ্গুত্ব এবং বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে জীবনযাপন করছেন বলে বেশ কিছু রোগীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এমনকি ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হলেও রহস্যজনক কারণে আইনি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তার খুঁটির জোর কোথায়, এ প্রশ্ন এলাকার সচেতন মহলের।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বাতের ব্যথা, কিডনি রোগ, ক্যান্সার, প্যারালাইজ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, নাক-কান গলাসহ ভাটকৈ বাজারের দোকানে সর্ব রোগের চিকিৎসা প্রদান করে আসছেন শরিফুল ইসলাম জজ। শুধু রোগী দেখেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই রোগীদের চিকিৎসা দেন। অধিকাংশ রোগীকেই হাই পাওয়ারের অ্যান্টবায়েটিক ও ব্যাথার ইনজেকশন দেন। অনেক রোগীকে ষ্টেরয়েড ইনজেকশনও পুশ করেন। এমনকি তিনি যে ওষুধ রোগীদের লিখে দেন, তার দোকানে ছাড়া অন্য দোকানে ওইসব ঔষধ পাওয়া যায় না।
উপজেলার সিংগাহার গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমি ধরাগুডু খেলতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ওই পল্লী চিকিৎসক জজের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে যাই। প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে সরাসরি একটি সাদা শিশি থেকে ঔষধ নিয়ে ইনজেকশন পুশ করেন। এরপরে কয়েকদিন ভালো ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই পা ফুলে ওঠে। এরপর নওগাঁ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে চিকিৎসক রাজশাহী মেডিকেলে রেফার্ড করেন। পরে রাজশাহীতে হাসপাতালে দীর্ঘ ৯ মাস চিকিৎসার পরে ঘরে ফিরতে পেরেছি। এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারিনি। পল্লী চিকিৎসক জজের ভুল ইনজেকশনের কারণে আমি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি।
শফিকপুর গ্রামের মৃত আজিম সরদারের ছেলে আফজাল সরদার বলেন, আমি অসহায় দরিদ্র মানুষ, কাজ করতে গিয়ে কিছুদিন পূর্বে আমার হাঁটুতে ব্যাথা পাই। এরপর ভাটকৈ বাজারে ডাক্তার জজের কাছে চিকিৎসা নিতে গেলে তিনশ' টাকা নিয়ে আমাকে হাঁটুর গিড়াতে একটি ইনজেকশন করেন। পর পর আমাকে ৮ মাসে ৮টি ইনজেকশন করেন জজ। এখন আমি আর ভালোভাবে হাঁটা-চলা করতে পারি না। ৮ মাসে পল্লী চিকিৎসক জজকে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা দিয়েছি। ডাক্তার জজের কাছে চিকিৎসা নিয়ে এখন আমি পঙ্গত্বের মতন জীবন যাপন করছি।
আরও পড়ুন: ঢাকায় চার সদস্যের পরিবারে মাসে খাবার খরচ ২৪ হাজার: সিপিডি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার কয়েকজন জানান, জজ একজন পল্লী চিকিৎসক। জানামতে সে শুধুমাত্র ছোট-খাটো রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা ও দোকানে ঔষধ বিক্রি করতে পারেন। কিন্তু ভাটকৈ বাজারে দোকান খুলে প্রতিনিয়তই জজ পরীক্ষা ছাড়াই সর্ব রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানলেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না।
এ ব্যাপারে পল্লী চিকিৎসক শরিফুল ইসলাম ওরফে জজের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি কথা বলতে রাজি হয়নি।
এ বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কেএইচএম ইফতেখারুল আলম খান বলেন, পল্লী চিকিৎসক জজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই বিভিন্ন রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন বলে আমরা শুনেছি। এছাড়া বেশকিছু রোগীর তার বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলতে। দ্রুত তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একাত্তর/আরবিএস
