কুমিল্লার মুরাদনগরে কৃষিজমির মাটি রক্ষা করতে গিয়ে মারধরে এক কৃষকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৮টার দিকে উপজেলার নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের গোকুলনগর গ্রামের কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে হাসান ইটভাটায় এই হত্যার ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, নিহত কৃষক আব্দুল বারেক ওরফে খোকন মিয়া (৬২) উপজেলার নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের গোকুলনগর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয় মাহবুব আলম আরিফসহ একাধিক কৃষকের অভিযোগ, প্রতিনিয়ত রাতের আধারে কৃষিজমি ও গোমতী নদীর মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে বহুবার জমির মালিকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।
নিহত কৃষক খোকন মিয়ার ছেলে কাইয়ুম বলেন, তাদের জমি পত্তন দেওয়া হয়েছিলো কামাল চেয়ারম্যানের কাছে। এ নিয়ে তাদের পক্ষ থেকে কোন প্রকার অভিযোগ ছিলো না। হঠাৎ তারা জানতে পারেন তাদের জমির মাটি কামাল চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে।
তিনি জানান, পরে কামাল চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন তিনি জমির অতিরিক্ত মাটি বিক্রয় করেছেন এবং তারা যেন এতে বাধা দেন। কামাল চেয়ারম্যানের কথা অনুযায়ী গিয়াস ও তার ছেলে রনিকে কয়েকবার বাধা দিলেও তারা রাতের আধারে ভেকু দিয়ে জমির মাটি কেটে নিয়ে যায়।
বুধবার রাত ৮টার দিকে অন্যদিনের মতো মাটি কাটায় বাধা দেওয়া হলে গিয়াস ও তার ছেলে রনি খোকন মিয়া ও তার ছেলে কাইয়ুমকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। একপর্যায় তারা খোকন মিয়ার তলপেটে সজোরে লাথি দিলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় কুমিল্লার একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক খোকন মিয়াকে মৃত ঘোষণা করে।
এদিকে, হাসান ইটভাটার মালিক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন জানান, তিনি অসুস্থ হওয়ার কারণে গতবছর থেকে ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে ইটভাটার জমিতে থাকা ইট তৈরির মাটিগুলো স্থানীয় গিয়াস উদ্দিন ও তার ছেলে রনির কাছে বিক্রি করে দেন তিনি।
আরও পড়ুন: মাদক মামলায় ফাঁসানোয় চার পুলিশের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ
তিনি আরও জানান, যেই জমি পত্তন নিয়ে ইটভাটা তৈরি করা হয়েছে তার মালিকরা কিছুদিন আগে তাকে মোবাইল ফোনে জানান যে তাদের জমিতে থাকা ইট তৈরির মাটির পাশাপাশি জমির মূল মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে গিয়াস ও তার ছেলে। তখন তিনি তাদের বাধা দিতে বলেন, কারণ তিনি তাদের কাছে কোনও জমির মূল মাটি বিক্রি করেননি।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পাওয়া মাত্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একাত্তর/এসজে
